দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের ভবিষ্যৎ কী?

একসময় বর্ণবৈষম্যে ভরা দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্য ছিল। তাদের দাপটে কালোরা ছিল কোণঠাসা। এখন সময় পাল্টেছে। সাদাদের সমাজে কিছু লোক টের পাচ্ছে বঞ্চনা কী, সহিংসতা কতটা ভয়াবহ। এমনকি তাদের ভবিষ্যত্ও হুমকির মুখে।গত রোববার বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তারই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দেশটিতে যারা বর্ণবাদ নিয়ে ভাবছে না, তারা প্রত্যেকেই বলবে যে শ্বেতাঙ্গরা এখনো শীর্ষে। তারা অর্থনীতিকে পরিচালনা করছে। রাজনীতি ও গণমাধ্যমে তুলনামূলকভাবে তাদেরই প্রভাব বেশি। ভালো ভালো ঘরবাড়িতে এখনো তারাই বেশি থাকছে। বেশির ভাগ ভালো চাকরি এখনো তাদের দখলে। সবই সত্যি, কিন্তু এটাই একমাত্র চিত্র নয়।
এর ঠিক অপর পিঠেই রয়েছে শ্বেতাঙ্গদের দারিদ্র্যের চিত্র। বোঝা যায়, অবস্থানের দিক দিয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে তারা। তা দেখে প্রশ্ন জাগে, দক্ষিণ আফ্রিকায় সত্যিই শ্বেতাঙ্গদের কোনো ভবিষ্যত্ আছে কি না।
হ্যাঁ, আছে। যারা ভালো অবস্থানে আছে, তাদের। যারা দেশটির পরিস্থিতির সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছে, তাদের ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল। কিন্তু আফ্রিকান ভাষাভাষী সাদা, যারা শ্রমিক শ্রেণীর, তাদের অবস্থা ভালো নয়। এই দুর্দশার চিত্র পত্রপত্রিকায় দেখা যায় না, টেলিভিশনেও প্রচার হয় না। কারণ, দক্ষিণ আফ্রিকার অতীত ইতিহাস থেকেই যেন এর আগমন। এই ইতিহাস দেশটির সাদা-কালো সবাই ভুলে থাকতে চায়।

দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা ম্যান্ডেলা নায়কেলার মতে, শ্বেতাঙ্গদের আজকের এ অবস্থার মূলে রয়েছে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি তাদের ব্যাপক স্বার্থপরতা ও বর্বর আচরণের কুফল।

রাজধানী প্রিটোরিয়ার বাইরে শ্বেতাঙ্গদের জন্য অস্থায়ীভাবে একটি শিবিরে গিয়ে দেখা যায়, সর্বত্র ভাঙাচোরা অকেজো গাড়ি ও বাতিল করা আসবাবের টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।কাঠের ঝুপড়ির পেছনে রয়েছে গর্ত ও ময়লার স্তূপ। বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানিতে চলছে মশার বংশবিস্তার। পুরো ক্যাম্পের ব্যবহারের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি শৌচাগার। সেখানে পানি ও বিদ্যুত্ নেই। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের কাছ থেকে দুই বেলা পাওয়া ভুট্টার জাউ খেয়ে তারা বেঁচে আছে। নেই সামাজিক নিরাপত্তাও।

আফ্রিফোরাম নামে একটি মানবাধিকার সংস্থার প্রধান আর্নস্ট রোয়েটস জানান, প্রিটোরিয়াতেই এমন প্রায় ৮০টি শিবির রয়েছে। এসব শিবিরে প্রায় চার লাখ দরিদ্র শ্বেতাঙ্গের জীবনচিত্র একই রকম।

শিবিরের বাসিন্দা নির্মাণকর্মী ফ্রানজ ডি জিগার বলেন, ‘আমি এখানে এমনভাবে বাঁচতে চাই না। কিন্তু এখান থেকে বেরও হতে পারছি না।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতি সপ্তাহে পত্রিকায় শ্বেতাঙ্গ কৃষকের খুনের খবর প্রকাশিত হলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে তেমন কিছু শোনা যায় না। শ্বেতাঙ্গ কৃষক বা পুলিশ কর্মকর্তা এই দুই পেশার মানুষকেই দেশটিতে বেশি খুনের শিকার হতে হয়।

আফ্রিফোরাম সংস্থাটির গত দুই দশকে খুন হয়েছে, এমন দুই হাজারের বেশি মানুষের নাম প্রকাশ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব ঘটনার সমাধানে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যায় না।

২০ বছর আগে দেশটিতে শ্বেতাঙ্গ কৃষকের সংখ্যা ছিল ৬০ হাজার। এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

অতীতে বর্ণবাদ ব্যবস্থায় শ্বেতাঙ্গরাই কেবল ফায়দা লুটেছে। আজ তাদেরই সেই অবস্থা হয়েছে।