default-image

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের ওপর চরম আঘাতের নির্দেশ দিয়েছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগ্রো দুতার্তে। তাঁর এমন ঘোষণার দুই দিনের মধ্যে ফিলিপাইনে অন্তত ৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শ্রমিকনেতা ও অধিকারকর্মী রয়েছেন।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুতার্তের ঘোষণার পর শনিবার ও গতকাল রোববার রাজধানী ম্যানিলাসহ দেশটির তিনটি প্রদেশে ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযান চালায় ফিলিপাইনের পুলিশ। এসব অভিযানে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আটক হয়েছেন আরও ৬ জন।

বিজ্ঞাপন

দেশটির পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তাঁদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অনেকে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। তবে পুলিশের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিপাইনের যুব অধিকার সংস্থা কারাপাতান অ্যান্ড দ্য কাবাতান পার্টি। সংস্থাটি জানিয়েছে, আটকের পর তাঁদের হত্যা করা হয়েছে।

এর আগে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের ওপর চরম আঘাতের নির্দেশ দিয়ে রদ্রিগ্রো দুতার্তে বলেছিলেন, ‘তাঁদের হত্যা করতে হবে। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আঘাত করে যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের কোনো আদর্শ নেই। তাঁরা ডাকাতের মতো লড়াই করছেন।’

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ম্যানিলার নিকটবর্তী কাভিতে প্রদেশে নিহত হয়েছেন শ্রমিকনেতা ইমানুয়েল আসুনশিওন। দেশটির জেলেদের সংগঠন এক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

ম্যানিলাসংলগ্ন বাতানগাস প্রদেশে শ্রমিকনেতা চাই ইভানজেলিস্তা ও এরিয়েল ইভানজেলিস্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের ঘণ্টাখানেক আগে থেকে নিখোঁজ ছিলেন এই দম্পতি। যুব অধিকার সংস্থা কারাপাতান বলছে, তাঁদের আটকের পর হত্যা করা হয়েছে। যদিও আটকের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্বীকার করেনি।

দেশটির রিজাল প্রদেশে আরও দুজন অধিকারকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ, এমনটাই জানিয়েছে কারাপাতান পার্টি। সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেল ক্রিস্টিনা পালাবে বলেন, প্রেসিডেন্ট দুতার্তের কমিউনিস্ট নিধনের নির্দেশের পরপরই এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ‘সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ’ উল্লেখ করে তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, মাদকবিরোধী অভিযানের সময়কার মতো সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে ফিলিপাইনে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের হত্যার জন্য মাথাপিছু পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন দুতার্তে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলেছেন, ‘তবে শুধু এটা নিশ্চিত করতে হবে যে তাঁদের মরদেহগুলো যেন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

১৯৬৮ সাল থেকে ফিলিপাইনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের লড়াই চলছে। দেশটির সেনাবাহিনী বলছে, ৫৩ বছর ধরে চলা এ বিদ্রোহে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় রদ্রিগো দুতার্তে শান্তি আলোচনার মাধ্যমে বিদ্রোহ অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে সেনাবাহিনী ও কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়তে থাকে। ২০১৭ সালে শান্তি আলোচনা বাতিল হলে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে প্রজ্ঞাপনে সই করেন দুতার্তে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন