বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়, অবাক করার বিষয় হলো, পৃথিবীর মতো কয়েক মিনিটের কম্পন নয়, মঙ্গলের মাটিতে এই ভূমিকম্প হয়েছে টানা দেড় ঘণ্টা। এর আগে গত ২৫ আগস্ট দুটি ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৪ দশমিক ২ এবং ৪ দশমিক ১ ম্যাগনিটিউড। কিন্তু সেগুলো এতক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এর আগে ২০১৯ সালে এই মঙ্গলযান সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ করেছিল।

ইনসাইট ল্যান্ডারের দায়িত্বে থাকা প্রধান বিজ্ঞানী ব্রুস ব্যানার্ড বলছেন, ‘মনে হচ্ছে, মঙ্গলে ছোট ভূমিকম্পের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম, তার চেয়ে কম ভূমিকম্প আছে। এটি রহস্যময়।

মঙ্গল গ্রহে এই বড় ধরনের ভূমিকম্প সেখানকার রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করতে পারে। যেভাবে এক্স-রে ও সিএটি স্ক্যান কাজ করে, সেভাবে বিজ্ঞানীরা ভূতরঙ্গ বিশ্লেষণ করে মঙ্গল গ্রহের কোরের গঠন সম্পর্কে জানতে পারবেন। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, মঙ্গলের অভ্যন্তরে আরও বিস্তারিত তথ্য পেলে গ্রহটির জন্ম কীভাবে হয়েছিল এবং সময়ের সঙ্গে এটি কীভাবে বিকশিত হয়েছিল, সে সম্পর্কে সূত্র মিলতে পারে। অন্য গ্রহে প্রাণের সন্ধানের জন্য সেই জ্ঞান জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

ইনসাইট মঙ্গলযানটি এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৭০০–এর বেশি ভূমিকম্প শনাক্ত করেছে। এই তথ্য থেকে মঙ্গলের গঠন সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, তাঁদের ধারণার চেয়ে মঙ্গলের ভূত্বক অনেক পাতলা। এটি পৃথিবীর চেয়ে মঙ্গলের সঙ্গে মিল বেশি। এটি গ্রহাণুর প্রভাবে ভেঙে গেছে। মঙ্গলের ভূত্বক শুষ্ক ও ভঙ্গুর হওয়ায় এখানে পৃথিবীর চেয়ে বেশিক্ষণ ভূমিকম্প হয়। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এই ভূমিকম্পের তথ্য ব্যবহার করে জানতে পেরেছেন, মঙ্গল গ্রহের গলিত কোর রয়েছে। তবে পৃথিবীর মতোই গলিত কোরের ভেতরে কঠিন কোর আছে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত নন।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন