বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে একই সঙ্গে নতুন বছরে বেশ কিছু ইতিবাচক ঘটনা ঘটতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যাতে আঁধার কেটে আশার আলো দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বিশ্বে করোনা মহামারির ধকল কেটে যাওয়া। কিন্তু তার জন্য অমিক্রনের ধকল সামলাতে হবে। বিশ্বে টিকাবৈষম্য দূর করতে হবে। নভেম্বরে কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ ছাড়াও বেইজিংয়ে উইন্টার অলিম্পিকের আয়োজন, বিশ্বজুড়ে কয়েকটি দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার বিষয়টি বিশ্বের জন্য আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠতে পারে।

গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের কোনো মুসলিম দেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। যদিও এ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি সবার নজর কাড়বে। এ বছর ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, তার ওপর চোখ থাকবে বিশ্ববাসীর। তেহরান পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করে ফেলবে কি না, তারও উদ্বেগ থেকে যাবে। এ বছর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দল একেপি পার্টির দুই দশক পূর্ণ হবে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক কোথায় গিয়ে ঠেকবে, সেদিকেও চোখ রাখতে হবে। ১০ জানুয়ারি জেনেভায় মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেন সমস্যা সমাধান নিয়ে আলোচনা করবেন তাঁরা।

লিবিয়া ও ইয়েমেনের পথ ধরে লেবানন ব্যর্থ রাষ্ট্রের খাতায় নাম লেখাতে যাচ্ছে কি না, তা-ও চোখে পড়তে পারে। নিবিড় দৃষ্টি রাখতে হবে ফিলিস্তিনের দিকেও। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস কোন পথে হাঁটেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এশিয়ায় চীনের ওপর পুরো বিশ্ববাসীর চোখ থাকবে। উইন্টার অলিম্পিক ঘিরে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে রাজনীতি ঘোলাটে হয়েছে। দুই দেশ এই আয়োজনে আসছে না। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং আরও পাঁচ বছর ক্ষমতা পাকাপোক্ত করে নেবেন।

এ বছর চীনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে ভারত তাদের কর্মযজ্ঞ আরও বাড়িতে তুলতে পারে। এ সময় ভারতের জনসংখ্যা চীনকে ছাড়িয়ে ১৪১ কোটিতে দাঁড়াতে পারে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা আরও বড় হয়ে উঠতে পারে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল আবারও কোণঠাসা অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা চালাবে।

এশিয়ার মধ্যে মিয়ানমারে সহিংস দমন-পীড়ন এবং তালেবানের আফগানিস্তান দখলের পর জনগণের দুর্দশায় পশ্চিমাদের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের বদলে হাত গুটিয়ে নিতে দেখা যাবে। উত্তর কোরিয়া নতুন করে তাদের পারমাণবিক ক্ষমতার প্রদর্শন করতে পারে। ফিলিপাইনে আসতে পারে নতুন প্রেসিডেন্ট। অস্ট্রেলিয়ায় স্কট মরিসন আবার নতুন করে ক্ষমতায় আসবেন।

ইউরোপ অঞ্চলের জন্য বছরটি হবে জটিল। করোনা মহামারির ব্যাপক বিস্তারের কারণে ইউরোপ পর্যুদস্ত। এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব এর ওপর দেখা যেতে পারে। ফ্রান্সে এ বছর নতুন করে প্রেসিডেন্টের পরীক্ষা দিতে হবে এমানুয়েল মাখোঁকে।

জার্মানিতে ওলাফ শলৎজের নতুন সরকারকে করোনা মহামারি পরবর্তী পরীক্ষা দিতে হবে। ম্যার্কেলের শাসনের পরবর্তী যে দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন তা কতখানি সামলাতে পারবেন, তা এ বছরে বুঝে যাবেন বিশ্ববাসী। অন্যদিকে অভিবাসীদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা বেলারুশের সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোর সম্পর্কের টানাপোড়েন কোথায় দাঁড়াবে, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

লাতিন আমেরিকার মধ্যে ব্রাজিলের নির্বাচন ঘিরে চোখ থাকবে এ বছর। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন। মতামত জরিপে বলসোনারোর চেয়ে এগিয়ে আছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা।

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেখানে ডেমোক্র্যাটদের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে বড় পরীক্ষা দিতে হবে। এ নির্বাচনের ফল খারাপ হলে বাইডেনের প্রেসিডেন্ট পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করবে।

এ বছর আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলোর জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে উঠবে তাদের টিকা পাওয়ার বিষয়টি।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন