default-image

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বলেছেন, ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের এখতিয়ার এই আদালতের রয়েছে। গত শুক্রবার আইসিসির বিচারকেরা এই সিদ্ধান্ত জানান। এর মধ্যে দিয়ে ফিলিস্তিনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের পথ খুলে গেল। খবর রয়টার্সের।

আইসিসির এই সিদ্ধান্ত আসার পরপরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েল আইসিসির সদস্য নয়। দেশটির সরকার বলেছে, ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে আইসিসির এখতিয়ারের বিষয়টি তারা স্বীকার করে না। তবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক এই আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইসিসির কৌঁসুলি ফাতু বেনসুদা বলেন, তাঁর কার্যালয় আদালতের সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনা করছে। এর ওপর ভিত্তি করেই তাঁরা নির্ধারণ করবেন, গুরুতর যুদ্ধাপরাধ ও নৃশংসতার বিচারে পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এর আগে ফাতু বেনসুদা ইসরায়েলের অপরাধ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তা বিশ্বাস করার মতো বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
আইসিসির বিচারকেরা শুক্রবার বলেন, ফিলিস্তিন এই আদালতের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। এ ছাড়া এই ভূখণ্ডের কর্তৃপক্ষ সেখানকার পরিস্থিতি আদালতের কাছে তুলে ধরেছে। এসবের ভিত্তিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিচারকেরা এ-ও বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র কি না, তা নির্ধারণের জন্য এই আদেশ নয়। বিচারকেরা আরও বলেন, আদালতের এই এখতিয়ার ১৯৬৭ সালের পর ফিলিস্তিনের যেসব এলাকা ইসরায়েল দখল করে নিয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এসব এলাকার মধ্যে গাজা, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেমও রয়েছে।

ফাতু বেনসুদা এর আগে ২০১৯ সালে ডিসেম্বরে উল্লেখ করেছিলেন, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে বা হচ্ছে। তিনি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন। তিনি সে সময় বলেন, ফিলিস্তিনে যা ঘটছে, তা তদন্ত না করার কোনো কারণ নেই। তবে ফাতু বেনসুদা প্রথমে আদালতের কাছে আদেশ চান, ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচার করার এখতিয়ার রয়েছে কি না। এরপরই গত শুক্রবার আইসিসি তার সিদ্ধান্ত জানাল।

আইসিসির এমন সিদ্ধান্তের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি ভিডিও বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভুয়া যুদ্ধাপরাধ তদন্তে আদালতের এই সিদ্ধান্ত ‘ইহুদিবিদ্বেষের’ নামান্তর। বিবিসির খবরে বলা হয়, আইসিসিকে একটি ‘রাজনৈতিক গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইসরায়েল। এই তদন্ত থেকে জনগণ ও সেনাদের রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দেশটি।

বিজ্ঞাপন

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আইসিসির সিদ্ধান্ত আসার দিনটিকে ‘জবাবদিহির জন্য ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আর হামাসের কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনের জনগণকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি আইসিসির প্রতি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরুর আহ্বান জানান।

এ দিকে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, আইসিসির এই সিদ্ধান্তের ফলে অবশেষে গুরুতর অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য প্রকৃত আশার সঞ্চার ঘটল। ইসরায়েল বা ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিচার শুরুর এখনই সময়।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন