গণভোটের প্রাথমিক ফল জানার পর রোববার ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ‘গণভোটে নিউ ক্যালেডোনিয়ার অধিবাসীরা ফ্রান্সের অধীনে থাকার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তাঁরা অবাধ ও মুক্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা এমন সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করতে পারব না। এর মধ্য দিয়ে ওই ভূখণ্ডে কয়েক বছর ধরে চলা বিভক্তির অবসান হবে। সেখানে পরিবর্তনের সূচনা ঘটবে।’
তবে রোববারের গণভোটে মাত্র ৪২ দশমিক ৬০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। তাই ভোটের এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাধীনতাপন্থীরা শেষ মুহূর্তে গণভোট বর্জন করেছিলেন।

আঠারো শতক থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের এই ছোট্ট ভূখণ্ড ফ্রান্সের অধীনে রয়েছে। ১৯৮৮ সালে ফ্রান্সের সঙ্গে সই হওয়া এক চুক্তিতে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের অধিকার পায় নিউ ক্যালেডোনিয়ার অধিবাসীরা। ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম গণভোটে ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার ফ্রান্সের সঙ্গে থাকার পক্ষে মত দেন। পরে গত বছরের অক্টোবরে দ্বিতীয় গণভোটে ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেন। এবার এ হার আরও বেড়েছে।
করোনা মহামারির কারণে গণভোটের আগে কার্যকর প্রচারণা চালানো যায়নি, এমন যুক্তিতে নিউ ক্যালেডোনিয়ার স্বাধীনতাপন্থীরা ১২ ডিসেম্বরের গণভোট স্থগিতের দাবি তুলেছিলেন। দাবি না মানায় তাঁরা গণভোট বর্জন করেছেন। স্থানীয় কানাক নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর গণভোট স্থগিতের পক্ষে জোরালো দাবি তুলেছিল। তাদের সংগঠন কানাক সোশালিষ্ট ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএনকেএস) বলছে, সরকার গণভোট আয়োজনের পক্ষে অনড় ছিল। রীতিমতো যুদ্ধের ঘোষণার মতো গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। তবে এতে জনগণের সাড়া পাওয়া যায়নি।

রাজধানী নউমেয়ার বই বিক্রেতা ক্যাথি এএফপিকে বলেন, ‘গণভোটের এই রায় বড় কিছু নয়। কেননা, এতে অর্ধেক জনসংখ্যার মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি।’

লন্ডনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক গ্লোবাল পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ রিসার্চ ফেলো জ্যাকুইস রিল্যান্ড আল–জাজিরাকে বলেন, বেশির ভাগ ভোটার স্বাধীনতার বিপক্ষে মত দিয়েছেন। যদিও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল মাত্র ৪৫ শতাংশ। আগের দুটি গণভোটে ৮০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। সেখানে ৫৬ শতাংশ ভোটার স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলেন।

এ বিষয়ে জ্যাকুইস রিল্যান্ড আরও বলেন, কিছু মানুষ আবেগের জায়গা থেকে ভোট দিয়েছেন। তবে বেশির ভাগ ভোট দিয়েছেন চিন্তাভাবনা করে। বিশেষত, করোনা মহামারির পর ফরাসি সরকার যেভাবে টিকা সহায়তা নিয়ে নিউ ক্যালেডোনিয়াবাসীর পাশে ছিল, ভোটের ফলে সেটার প্রতিফলন দেখা গেছে। অনেকে মহামারি–পরবর্তী সময়ে আর্থসামাজিক ধাক্কা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে ফ্রান্সের সঙ্গে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমেই প্রভাব বাড়াচ্ছে চীন। এই অঞ্চলে চীনের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোও সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ভূরাজনৈতিক ও সামরিক স্বার্থের এমন পরিস্থিতিতে ফরাসি সরকারের জন্য নিউ ক্যালেডোনিয়ায় প্রভাব ধরে রাখার গুরুত্ব অনেক।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন