বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, রাতভর আলোচনা শেষে স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সকালে সম্মেলনের তৃতীয় খসড়া প্রকাশ করা হয়। এতে কয়লার ব্যবহার থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টিকে জোরালোভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দেশগুলোকে তাদের করণীয় ঠিক করে জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা নতুন করে প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। তৃতীয় এ খসড়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এরই মধ্যে ক্ষতির মুখে পড়া উন্নয়নশীল ও দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি উল্লেখ না করায় ভুক্তভোগী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এর আগে ২০২০ সালের মধ্যে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ধনী দেশগুলো। এ প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি তারা।

এদিকে ঝুলে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন কপের প্রেসিডেন্ট অলোক শর্মা। গতকাল স্থানীয় সময় বিকেলে তাঁর নির্ধারিত প্ল্যানারি সেশন স্থগিত করে তিনি বলেন, ‘যা সামনের দিকে এগিয়ে নেবে তা হলো একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্যাকেজ ঘোষণা। প্রত্যেকেই তাঁর বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন এখানে। আমি আশা করি, আলোচনার টেবিলে এখন যা আছে, সবাই তার গুরুত্ব উপলব্ধি করবেন। যদিও প্রতিটি দিক বিবেচনায় সবাই সবকিছুকে স্বাগত জানাবেন না, কিন্তু সমষ্টিগতভাবে একটা প্যাকেজ ঘোষণা সত্যিকার অর্থে সবাইকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।’ তিনি গতকালের মধ্যেই সম্মেলন শেষ হওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে গত ৩১ অক্টোবর স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে শুরু হওয়া এবারের জলবায়ু সম্মেলনে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বিষয়ে বিশ্বনেতারা একমত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি চুক্তিও হয়েছে কিছু দেশের মধ্যে। যদিও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রিতে আটকে রাখার পক্ষে তা যথেষ্ট নয় বলে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে। সবশেষ গবেষণা সংস্থা ক্লাইমেট অ্যাকশন ট্র্যাকার এক প্রতিবেদনে বলেছে, জলবায়ু সম্মেলনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার পরও প্রাক্‌-শিল্পায়নের সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রার বৃদ্ধি ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকবে।

বিজ্ঞানীরা বারবার বলে আসছেন, শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রার বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে আটকে রাখতে পারলেই কেবল জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে। বিষয়টিই নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে একমত হয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল বিশ্বের দেশগুলো।

উল্লেখযোগ্য চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি

জলবায়ু সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি ঘোষিত হয়েছে। দেওয়া হয়েছে একাধিক প্রতিশ্রুতি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বৈশ্বিক তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রিতে আটকে রাখতে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। সব বিষয়ে পরস্পর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত দেশ দুটির মধ্যে এ মতৈক্যকে এবারের সম্মেলনের ‘চমক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বন উজাড় বন্ধে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্রাজিলসহ শতাধিক দেশের নেতারা। এ সময়ের মধ্যে নতুন করে বনায়ন শুরুতেও কথা দিয়েছেন তাঁরা।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে গ্রিনহাউস গ্যাস মিথেনের নির্গমন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তারা এ লক্ষ্য পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বায়ুমণ্ডল থেকে মিথেন গ্যাস কমানোর বিষয়টিকে দ্রুততম সময়ে তাপমাত্রাকে নিম্নমুখী করার উপায় হিসেবে দেখা হয়।

৪০টির বেশি দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে কয়লার ব্যবহার বন্ধে একমত হয়েছে। যদিও কয়লা ব্যবহারকারী শীর্ষ দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এ ব্যাপারে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

নতুন একটি জোট আত্মপ্রকাশ করেছে এবারের সম্মেলনে। তারা বিভিন্ন দেশকে তেল ও গ্যাসের ব্যবহার বন্ধের তারিখ নির্ধারণসহ জীবাশ্ম জ্বালানির অনুসন্ধানে নতুন করে লাইসেন্স প্রদানে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি আদায়ে কাজ করবে।

প্রসঙ্গত, জলবায়ু সম্মেলন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর ঘটনা এটাই নতুন নয়। এর আগেও চূড়ান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন