বিজ্ঞাপন

‘ল্যানসেট’–এ অক্সফোর্ডের টিকার যে ফল প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো প্রাথমিক পর্যায়ের। এ ধাপে মূলত টিকাটি মানবদেহের জন্য কতটা নিরাপদ এবং মানুষের দেহ কীভাবে এতে সাড়া দিচ্ছে, তা নির্ণয় করে।

অক্সফোর্ডে টিকার আগে সম্প্রতি তিনটি টিকার অগ্রগতি সম্পর্কে জানা গেছে। এগুলো হলো ফাইজার-বায়োএনটেক, স্পুতনিক ও মডার্না। ফাইজারের তৈরি করোনাভাইরাসের (কোভিড–১৯) টিকা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর বলে দাবি করা হয়েছে। এই টিকায় উল্লেখযোগ্য কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি বলে দাবি ফাইজারের। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি মডার্না ইনকরপোরেশন গত সোমবার জানায়, তাদের তৈরি টিকা করোনা ঠেকাতে ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ কার্যকর। আর রাশিয়ার দাবি, তাদের তৈরি স্পুতনিক টিকার কার্যকারিতা ৯০ শতাংশের বেশি।

তবে ফাইজার ও মডার্নার টিকা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাপমাত্রার বাধ্যবাধকতা আছে। ফাইজারের টিকা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পরিবহন ও সংরক্ষণ করতে হবে। মডার্না ইনকরপোরেশন আশা, তাদের তৈরি টিকা রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৩০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। আর মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এটা সংরক্ষণ করা যাবে ৬ মাস। অক্সফোর্ডের টিকার ক্ষেত্রে এ ধরনের বাধ্যবাধকতা তেমন নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই টিকা সংরক্ষণের জন্য অতি কম তাপমাত্রার প্রয়োজন নেই। এই টিকাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাবে অক্সফোর্ডের টিকা।

অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের পরিচালক অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড জানিয়ে দিয়েছেন, বাজারে আসতে পারে এমন অন্য কোনো টিকার সঙ্গে তাদের কোনো প্রতিযোগিতা নেই। কোনো প্রতিযোগিতায় নাম লেখানোর খাতিরে টিকা তৈরিতে কোনো তাড়াহুড়া করা হবে না। তা ছাড়া বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ ঠেকাতে হলে একাধিক করোনা টিকার সফল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অ্যান্ড্রু বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে থাকা সব মানুষকে রক্ষা করতে আমাদের সব টিকা পাওয়ারই প্রয়োজন রয়েছে।’

যুক্তরাজ্য সরকারের বৈজ্ঞানিক পরামর্শদাতা গ্রুপের অন্যতম সদস্য মাইকেল টিলডেসলি বলেছেন, অক্সফোর্ডের এই টিকা করোনাভাইরাস ঠেকানোর লড়াইয়ের অন্যতম অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। টিকাটির দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল পর্যালোচনা করে তিনি বলেছেন, এই টিকা করোনায় মৃত্যু ঠেকাতে প্রধান কার্যকর উপায় হয়ে উঠতে পারে।

সারা পৃথিবীতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে পাঁচ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে করোনাভাইরাসে মৃত্যু আড়াই লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন