বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আমি খুব খুশি; মার্কিন বাহিনী শেষপর্যন্ত আফগানিস্তান ছেড়েছে। এর জন্য আমি আল্লাহর কাছে ভীষণ কৃতজ্ঞ। অবশেষে আমি নিজেকে নিরাপদ মনে করছি।
হাজি মোহাম্মদ ওয়াজির, পানশিরের জাঙ্গাবাদ গ্রামের বাসিন্দা

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এক ট্র্যাজেডির শিকার হয় যুক্তরাষ্ট্র। টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ হামলা কাঁদায় হাজারো পরিবারকে। এ হামলারই কি না প্রতিশোধ নিতে অর্ধপৃথিবী দূরে আফগানিস্তানের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্র কাঁদিয়ে ছাড়ে হাজারো আফগান পরিবারকে। দীর্ঘ ২০ বছর পরও যার ক্ষত থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি নিরীহ আফগানরা।

অথচ এই আফগানরা হয়তো সে সময় খুব কমই জানতেন বা একেবারে জানতেনই না যে, নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারে বিমানের সাহায্যে হামলা হয়েছে। আর নিশ্চিতভাবে এসব আফগানের আল-কায়েদার সঙ্গে আদৌ কোনো সম্পর্ক ছিল না।

আল-কায়েদাকে ওই হামলার জন্য দায়ী করে ও আফগানিস্তান থেকে সংগঠনটি হামলার পরিকল্পনা করেছে অভিযোগে ২০০১ সালে দেশটিতে তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান তথা আফগান যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। যার খেসারত, নিরীহ আফগানদের বছর-বছর স্বজন হারানো। এ যুদ্ধে ঠিক কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, সেই হিসাব পাওয়া দুষ্কর।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এক ট্র্যাজেডির শিকার হয় যুক্তরাষ্ট্র। টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ হামলা কাঁদায় হাজারো পরিবারকে। এ হামলারই কি না প্রতিশোধ নিতে অর্ধপৃথিবী দূরে আফগানিস্তানের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্র কাঁদিয়ে ছাড়ে হাজারো আফগান পরিবারকে। দীর্ঘ ২০ বছর পরও যার ক্ষত থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি নিরীহ আফগানরা

মার্কিন আগ্রাসনে যে লাখো আফগান প্রিয় স্বজনকে হারিয়েছেন, হাজি মোহাম্মদ ওয়াজির তাঁদের একজন। আগ্রাসন শুরুর ১১ বছর পর ২০১২ সালের ১১ মার্চের এক সকাল। চার বছরের এক শিশুসন্তান ছাড়া ওই দিন সকালে মার্কিন সেনার হাতে পরিবারের সবাইকে হারান তিনি। টুইন টাওয়ারে হামলার এক দশকের বেশি তখন পেরিয়ে গেছে। তারপরও ওই সকালে ওয়াজিরের ঘরের দরজায় পা পড়ে মার্কিন সেনাদের।

ঘরে ঢুকে সার্জেন্ট বেলস একে একে হত্যা করেন ওয়াজিরের প্রিয়তম স্ত্রী, আদরের চার ছেলে ও চার মেয়ে এবং আরও দুই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে। এতেও থামেনি বেলসের নিষ্ঠুরতা। ৯ শিশুসন্তানকে মাথায় গুলি করে মেরে ফেলার পর তাদের নিথর দেহগুলোকে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা চালান এই মার্কিন সেনা।

শনিবার ৯/১১ হামলার ২০ বছর পূর্তির দিনটিতে সকাল সকাল ঘর থেকে বেরিয়ে অন্য গ্রামবাসীর সঙ্গে জড়ো হন শোকাহত এই আফগান। ওয়াজির গার্ডিয়ানকে বলছিলেন, ‘আমার আজও মনে হয়, এই এখনই বুঝি আমার সামনে ওই ঘটনা ঘটছে।’ তালেবানের হাতে কাবুলের পতন ও মার্কিন সেনাদের পিছু হটা প্রসঙ্গে বলছিলেন, ‘আমি খুব খুশি; মার্কিন বাহিনী শেষপর্যন্ত আফগানিস্তান ছেড়েছে। এর জন্য আমি আল্লাহর কাছে ভীষণ কৃতজ্ঞ। অবশেষে আমি নিজেকে নিরাপদ মনে করছি।’

বিশ্লেষকেরা বলেন, এ হত্যাকাণ্ড হিমশৈলীর চূড়া দেখার মতোই যেন ঘটনা। যার প্রায় পুরোটা থাকে দৃষ্টির আড়ালে সাগরের নিচে। আর এটি প্রথমও নয়, যেখানে বিদেশি সেনাদের হাতে একটি ঘটনাতেই নারী-শিশুসহ এতজন বেসামরিক আফগান মারা গেলেন।

গার্ডিয়ানকে জাঙ্গাবাদ গ্রামের পাঁচজন বলেছেন, গত প্রায় এক দশকে তাঁরা (মার্কিন বাহিনী ও এর মিত্রদের) বিমান হামলা এবং গণহত্যায় ৪৯ জন স্বজনকে হারিয়েছেন। এমন ভয়ানক ঘটনা আফগানিস্তানের অনেকাংশে বারবার ঘটেছে। মার্কিন বাহিনীর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড তালেবানের প্রতি আফগানদের সমর্থন বাড়িয়েছে। এতে ভর করে তালেবানও ধীরে ধীরে সংগঠিত হয়ে রীতিমতো ঝড়ের বেগে পুরো দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন