যে গ্রামে দীপ্যমান মাও সেতুং

এই গ্রামে সারাক্ষণ খুঁজে পাওয়া যাবে মাও সেতুংকে ছবি: বিবিসি অনলাইন
এই গ্রামে সারাক্ষণ খুঁজে পাওয়া যাবে মাও সেতুংকে ছবি: বিবিসি অনলাইন

মাও সেতুংকে বলা হয় গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠাতা পিতা। দেশে সমাজতন্ত্রের সাম্য প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। এ কারণেই ৩৭ বছর আগে মারা গেলেও এখনো তিনি দেশের অগণিত মানুষের মনে জাজ্বল্যমান। এর উজ্জ্বল উদাহরণ হেনান প্রদেশের নানজিকুন গ্রাম। ওই গ্রামে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পুরোটা সময় দীপ্যমান থাকেন মাও সেতুং।

এ নিয়ে বিবিসি অনলাইনে আজ সোমবার প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, রোদ-বৃষ্টি যা-ই থাকুক না কেন, প্রতিদিন সকাল সোয়া ছয়টায় চীনের সাবেক নেতা মাও সেতুংয়ের স্তবগান বাজে। সবার কাছে মাওয়ের সে গুণগান পৌঁছাতে রাস্তার প্রতিটি বাতির খুঁটিতে লাগানো হয়েছে লাউড স্পিকার।

নানজিকুনে গেলে মনে হবে, হয় সেখানে মাও সেতুংয়ের সময়টা থমকে আছে অথবা গ্রামটা সেই ফেলে আসা সময়ে চলে গেছে। মাওয়ের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি শাসকেরা রাষ্ট্রের মালিকানাধীনে নেওয়া এখানকার জমি গত শতকের আশির দশকে কৃষকদের কাছে ফিরিয়ে দেন। তবে কৃষকেরা জমিগুলো গ্রাম কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়ে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে সবার অংশীদারত্ব আছে।
এ ব্যবস্থায় চাষাবাদ করায় গ্রামবাসী উপকৃত হয়েছে, দ্বন্দ্ব-দুর্ভিক্ষ থেকে রক্ষা পেয়েছে। সমষ্টিগতভাবে গ্রামের সবারই অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এক সময়ের বস্তি ঘরগুলোর জায়গায় হয়েছে আধুনিক ভবন। গ্রামের বিরাট প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে সেসব দেখছে মাও সেতুং, লেনিন ও স্তালিনের বড় ভাস্কর্যগুলো। চারদিকে ঝুলছে লাল ব্যানার।
বাইরের বিনিয়োগে এখানে গড়ে ওঠেছে নুডলস, বিয়ার আর ওষুধ তৈরির কারখানা। স্থানীয় লোকজনের খবরের তৃষ্ণা মেটাতে আছে একটি পত্রিকা অফিস। বিনোদনের জন্য রয়েছে একটি বেতারকেন্দ্র, সেখান থেকে প্রতিদিন সকালে মাও সেতুংয়ের গান প্রচার হয়।
টেলিভিশন স্টেশনটি জনপ্রিয় অনেক অনুষ্ঠান প্রচার করে। নানজিকুনে ব্যক্তিগত গাড়ি নেই বললেই চলে। আছে কিছু ইলেকট্রিক স্কুটার আর তিন চাকার ট্রাক।
এখানকার মানুষের মূল বেতন খুবই কম, মাসে মাত্র ৩২ ডলারের মতো। তবে সামাজিকভাবে দলবদ্ধ এসব মানুষ বিনা ভাড়ায় ভবনগুলোতে থাকেন। খাদ্যপণ্য, শিক্ষাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বিনা মূল্যে পাওয়া যায়।
সমাজতন্ত্রের মূল চেতনা ধারণ করে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জীবনযাপনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন নানজিকুনের বাসিন্দারা। তাঁরা যৌথভাবে জমির মালিক, যে জমিতে তাঁরা আবাদ করেন, অন্যদের কারখানা স্থাপন করতে দিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন, সবাই মিলে যৌথভাবে জীবনমানের উন্নয়ন করেন।
ঝকঝকে পরিপাটি বাসায় সুন্দরভাবে টাঙানো ছবি, ফ্ল্যাট স্ক্রিন টেলিভিশন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ফোন—সব মিলিয়ে যেন মাওয়ের স্বপ্নের সুখী সংঘের বাসিন্দা নানজিকুনের বাসিন্দারা।