'মনে হচ্ছিল শিগগিরই মারা যাব'

নিজের বাগদত্তার সঙ্গে এক রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন গ্যারেথ (ছদ্মনাম)। সঙ্গে ছিলেন তাঁর কয়েকজন বন্ধু ও বন্ধুর স্ত্রী। হঠাৎ করেই হইচই আর কাচ ভাঙার শব্দে সচকিত হয়ে ওঠেন তাঁরা। সবার আতঙ্কিত ছোটাছুটিতে বুঝতে পারলেন ভয়ংকর কিছুই হয়েছে। প্রাণের ভয়ে শেষে তাঁরা লুকালেন রেস্তোরাঁর টয়লেটে। সেখানেই কেটে গেল রাতের অনেকটা। ওই সময়ের প্রতিটি সেকেন্ড গ্যারেথের কাছে মনে হচ্ছিল অনন্তকাল।
ভয়াবহ এ অভিজ্ঞতা নিয়ে আজ রোববার সিএনএনের সঙ্গে কথা বলেছেন গ্যারেথ। তিনি জানান, ব্ল্যাক অ্যান্ড ব্লু রেস্তোরাঁয় বাগদত্তা ও বন্ধুদের সঙ্গে খাচ্ছিলেন। হট্টগোলের মধ্যে পড়ে সবাই মিলে সিঁড়ি বেয়ে উঠছিলেন ওপরের তলায়। পালানোর সময় দেখতে পান, বাদামি রঙের কোট পরা এক ব্যক্তি ঢুকছেন রেস্তোরাঁয়। তাঁর হাতে বিশাল এক চাপাতি।
গ্যারেথের বন্ধুদের মধ্যে একজন ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। যে টয়লেটে একজনের বেশি থাকার জায়গা নেই, সেখানেই ঢুকে পড়েন চারজন। ছোট্ট সেই জায়গার বাতাস তখন চারজনের নিশ্বাসে ভারী হয়ে এসেছে। এর মধ্যে আবার আছে প্রাণনাশের আশঙ্কা। জীবনে প্রথমবারের মতো গ্যারেথের তখন মনে হচ্ছিল, ‘শিগগিরই বোধ হয় মারা যাব।’
লন্ডন থেকে ২০০ মাইল দূরে চেস্টারের অধিবাসী গ্যারেথ জানান, একটি বিকট শব্দের পরই শুরু হয় সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব। তিনি বলেন, রেস্তোরাঁয় থাকা মানুষদের মধ্যে ছিল এক অজানা ভয়। কারণ, কেউই জানতেন না কী ঘটছে।
গ্যারেথ বলেন, ‘ওই সময়ে আমার বন্ধুদের চোখে যে ভয় আমি দেখেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম আমি। কথা বলতে হচ্ছিল ফিসফিসিয়ে। শব্দ একটু জোরে হলেই মনে হচ্ছিল, এই বুঝি কেউ খুঁজে পেল আমাদের। কারণ, তখনো দরজার ওপাশে মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছিল। গুলির শব্দ আসছিল। মনে হচ্ছিল, আমাদের হয়তো দরজার ওপাশ থেকে গুলি করেই মেরে ফেলবে। ভয় ছিল মারাত্মক।’
গতকাল শনিবার রাতে লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলা হয়। লন্ডন ব্রিজে পথচারীদের ওপর দ্রুতগতির একটি ভ্যান তুলে দেয় সন্ত্রাসীরা। পরে গাড়ি থেকে নেমে তারা পার্শ্ববর্তী বারা মার্কেট এলাকায় সাধারণ লোকজনের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। এ হামলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৮ জন। পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে সন্দেহভাজন তিন সন্ত্রাসী। আর হামলায় জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে ১২ জনকে।
তবে, গ্যারেথের সন্ত্রাসী হামলায় পড়ার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত মার্চ মাসে ওয়েস্টমিনস্টারে সন্ত্রাসীদের হামলার সময়ও ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিলেন তিনি। তবে এবারের অভিজ্ঞতা তাঁর মেরুদণ্ডে বইয়ে দিয়েছে শীতল স্রোত।