'মোদির স্ত্রীকে ভারতরত্ন দেওয়া উচিত'
আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী পদে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির স্ত্রী যশোদাবেনকে ভারতরত্ন দেওয়া উচিত। তিনি বলেছেন, যশোদাবেন যন্ত্রণা ও আত্মত্যাগের (সেক্রিফাইস অ্যান্ড পেইন) প্রতীক।
গতকাল রোববার আসামের রাজধানী গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে গগৈ এসব কথা বলেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বলেন, ১০ দিনের মধ্যে তিনি যশোদাবেনকে ভারতরত্ন দেওয়ার জন্য লিখিত সুপারিশ করবেন। তিনি বলেন, ‘ওনাকে শত কুর্নিশ। উনি একজন অসাধারণ নারী, নারীত্বের প্রতীক। শুধু দেশের কাছে নয়, গোটা বিশ্বের কাছে উনি যন্ত্রণা ও আত্মত্যাগের নিদর্শন। মুখ বুজে সহ্য করার জন্য তাঁর নোবেল পুরস্কারও পাওয়া উচিত। উনি একজন প্রকৃত সন্ন্যাসী। আর নরেন্দ্র মোদি একজন গেরুয়াধারী পুরুষ, যিনি ক্ষমতা চান।’
৪৫ বছর পর ভারতের বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি তাঁর স্ত্রীকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
গত বুধবার গুজরাটের বরোদা আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদি স্ত্রীর নাম লেখেন যশোদাবেন। ১৯৬৮ সালে মোদি যশোদাবেনকে বিয়ে করেন। তখন যশোদাবেনের বয়স ছিল ১৭ বছর। মাত্র তিন বছর পর মোদি ‘আরএসএস’র একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে সংসার ধর্ম ত্যাগ করেন। এরপর আর মোদি আর যশোদাবেনের খোঁজ রাখেননি । যশোদাবেনও চলে যান গুজরাটের মেহসানা জেলার ঈশ্বরওয়ারা গ্রামে। সেখানে তিনি ভাইদের সঙ্গে থাকতেন। ভাইয়েরা তাঁর বিয়ে দিতে চাইলেও তিনি বিয়ে করেননি। স্কুল শিক্ষকতা করে জীবিকা নির্বাহ করেন যশোদাবেন। বর্তমানে একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা হিসেবে তিনি ওই গ্রামেই রয়েছেন।
মোদি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার পর থেকে যশোদাবেন স্বামীর মঙ্গল কামনায় নিয়মিত পূজা-অর্চনা করছেন। যশোদাবেন শপথ নিয়েছেন, স্বামী মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী না হওয়া পর্যন্ত তিনি ভাত খাবেন না। পায়ে কোনো জুতো পরবেন না। স্বামীর মঙ্গল কামনায় তিনি এখন ভারতের পবিত্র তীর্থস্থান পরিভ্রমণ করছেন।