কৃত্রিম মিষ্টান্ন গ্রহণে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কতটা, তা মূল্যায়ন করার লক্ষ্যে ফ্রান্সের ইনসার্ম ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা ফ্রান্সের এক লাখের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ডেটা বিশ্লেষণ করেন। নিউট্রিনেট-সান্তে নামে গবেষণার আওতায় ২০০৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ওই প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের খাদ্যাভাস, জীবনযাপন ও চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা।

গবেষণায় দেখা যায়, ৩৭ শতাংশ মানুষ কৃত্রিম মিষ্টান্ন গ্রহণ করেন। তাঁদের দৈনিক গড় মিষ্টান্ন গ্রহণের পরিমাণ ৪২ মিলিগ্রাম, যা এক প্যাকেট মিষ্টান্ন বা একটি ডায়েট সোডা ক্যানের এক-তৃতীয়াংশ পানের সমতুল্য। গবেষকেরা প্রায় ৯ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে ১ হাজার ৫০২ জনের হৃদ্‌যন্ত্রে সমস্যা শনাক্ত করেন। এর মধ্যে হৃদ্‌রোগ (হার্ট অ্যাটাক), অ্যানজাইনা ও স্ট্রোকের মতো সমস্যাও শনাক্ত করেন তাঁরা।

গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে বিএমজে নামে একটি আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে। গবেষকেরা বলেন, উচ্চমাত্রায় কৃত্রিম মিষ্টান্ন গ্রহণকারী ১ লাখ মানুষের মধ্যে ৩৪৬ জনের হৃদ্‌রোগ শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে মিষ্টান্ন গ্রহণ না করা ১ লাখ লোকের মধ্যে হৃদ্‌রোগ শনাক্ত হয়েছে ৩১৪ জনের।

ইনসার্ম ইনস্টিটিউটের গবেষক মাথিলদে তোভিয়ার বলেন, চলতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশ করা একটি গবেষণার ফলকে তাঁদের গবেষণার ফল সমর্থন করে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় বলা হয়েছিল, চিনির নিরাপদ বিকল্প হচ্ছে কৃত্রিম মিষ্টান্ন।

নিউট্রিনেটের তথ্য ব্যবহার করে এ বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় ক্যানসারের সঙ্গে অ্যাসপার্টাম, অ্যাসিসালফেম পটাশিয়াম এবং সুক্রজের মতো কৃত্রিম মিষ্টিন্নের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

তবে এ ধরনের গবেষণাগুলো নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। কারণ, এগুলো থেকে যে ফলাফল পাওয়া গেছে, এর পেছনের কারণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না। গ্লাসগো ইউনিভার্সিটির গবেষক নাভিদ সাত্তার বলেন, গবেষণা ঘিরে যেসব প্রশ্ন তৈরি হয়, তার জবাব দিতে পারে না এ গবেষণা। কারণ, কৃত্রিম মিষ্টান্ন গ্রহণকারী ব্যক্তির অনেক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিষ্টান্ন না খাওয়া ব্যক্তিদের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। তাই এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার জন্য সরকারের বিনিয়োগ জরুরি।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন