এপস্টিন নথিতে আরও কিছু আলোচিত নাম
আলোচিত–সমালোচিত এপস্টিন নথি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এ তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী বিল গেটসের নাম রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে ইউরোপের কূটনীতিক, আইন কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। এর বাইরেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দালাই লামার মতো ব্যক্তিদের নামও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অবশ্য পুতিন ও দালাই লামা এপস্টিনের সঙ্গে কখনো দেখা করেননি। অনেক ক্ষেত্রে এপস্টিনকে পাঠানো ই–মেইলে তাঁদের নাম উল্লেখ করার মতো ঘটনা রয়েছে। এ ছাড়া মানবাধিকারকর্মী নোয়াম চমস্কি, শিল্পপতি অনিল আম্বানি, আধ্যাত্মিক বক্তা দীপক চোপড়ার মতো ব্যক্তির নামও নথিতে রয়েছে।
ভ্লাদিমির পুতিন
এপস্টিনের সঙ্গে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টিন–সম্পর্কিত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার ই–মেইল ও চিঠিপত্র প্রকাশ করার পর এই বিতর্কের সূত্রপাত। এপস্টিনের ই–মেইল অ্যাকাউন্ট থেকে পাওয়া নথিতে অন্তত ১ হাজার ৫ বার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নাম এসেছে। এর বেশির ভাগই অবশ্য বিভিন্ন সংবাদপত্রের ক্লিপিং। তবে কিছু ই–মেইলে এপস্টিনকে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের তোড়জোড় করতে দেখা গেছে। নথিতে একাধিকবার পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তাঁদের মধ্যে কোনো বৈঠক হয়েছিল কি না, তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দালাই লামা
এপস্টিনের সঙ্গে তিব্বতি আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার খবর নাকচ করে দিয়েছে তাঁর দপ্তর। গতকাল এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দালাই লামার সঙ্গে এপস্টিনের কখনোই কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এপস্টিন নথিতে দালাই লামার নাম ১৬৯ বার এসেছে। দালাই লামার কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এপস্টিন নথির বরাত দিয়ে দালাই লামার সঙ্গে এপস্টিনের নাম জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করছি যে দালাই লামা কখনো এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করেননি।’
নোম চমস্কি
যৌনকর্মের জন্য নারীদের পাচারের অভিযোগ নিয়ে নিজের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে ‘নোংরা’ উল্লেখ করে নোম চমস্কির কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন জেফরি এপস্টিন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ভাষাবিদ ও অধিকারকর্মী চমস্কির কাছে কিছু ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন এপস্টিন। তাঁদের মধ্যে একাডেমিক প্রবন্ধ থেকে শুরু করে দেখা করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্যক্তিগত ও আর্থিক বিষয়েও এপস্টিনের ওপর আস্থা রেখেছিলেন এই দম্পতি। এপস্টিনের ই–মেইলের জবাবে চমস্কি তখন লিখেছিলেন, এপস্টিনের সঙ্গে যে ‘ভয়াবহ’ আচরণ করা হচ্ছে, তা দুঃখজনক।
অনিল আম্বানি
এপস্টিনের প্রভাববলয় যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। নতুন করে ফাঁস হওয়া মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে দেখা গেছে, ভারতের শিল্পপতি অনিল আম্বানির সঙ্গে এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। গালফ নিউজ বলছে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এপস্টিন ও অনিল আম্বানির মধ্যে আদান–প্রদান হওয়া একাধিক বার্তায় ব্যবসা, বিশ্ব পরিস্থিতি, নারী এবং সরাসরি সাক্ষাতের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০১৭ সালের মার্চে পাঠানো এক বার্তায় অনিল আম্বানি এপস্টিনের কাছে সুইডিশ স্বর্ণকেশী নারী চান।
দীপক চোপড়া
লেখক ও আধ্যাত্মিক বক্তা দীপক চোপড়ার সঙ্গে এপস্টিনের নিয়মিত ই–মেইল যোগাযোগের তথ্য সামনে এসেছে। ২০১৯ সালে এপস্টিন গ্রেপ্তার হওয়ার মাত্র কয়েক মাস আগে পর্যন্তও তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল বলে প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে।
২০১৭ সালের একটি ই–মেইল চালাচালিতে এপস্টিন দীপক চোপড়ার কাছে একজন ‘সুন্দরী ইসরায়েলি স্বর্ণকেশী’ খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ করেন। ২০১৬ সালের অন্য একটি বার্তায় এপস্টিনের বিরুদ্ধে থাকা একটি দেওয়ানি মামলা নিয়ে খোঁজ নিতে দেখা যায় দীপক চোপড়াকে।