ইয়ংবিয়নে নতুন পারমাণবিক স্থাপনা উত্তর কোরিয়ার: আইএইএ
নিজেদের প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র ইয়ংবিয়নে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে নতুন একটি স্থাপনা গড়ে তুলেছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ক্যাংসন পারমাণবিক কেন্দ্রের সম্প্রসারিত অংশেও কার্যক্রম শুরু করেছে দেশটি। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের এই পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ ও চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উত্তর কোরিয়া একাধিক স্থানে ধারাবাহিকভাবে তাদের পারমাণবিক অবকাঠামো বাড়িয়ে চলেছে। ২০০৯ সালের পর থেকে দেশটিতে আইএইএর কোনো পরিদর্শককে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না পিয়ংইয়ং। ফলে উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবি এবং উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি বিশ্লেষণ করেই সংস্থাটি এই পর্যবেক্ষণ তৈরি করেছে।
আইএইএর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের একটি পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শনের ছবি প্রকাশ করে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। সেই ছবির সঙ্গে স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি মিলিয়ে ইয়ংবিয়নে নতুন দোতলা ভবনটি শনাক্ত করা হয়েছে। এটি ওই কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা। ভবনটির ওপর ও নিচ—উভয় তলাতেই গ্যাস সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড বসানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সেখানে অন্তত ২৮টি ক্যাসকেড বসানোর সুযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইয়ংবিয়নের পাশাপাশি পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ক্যাংসনে অবস্থিত ইউরেনিয়াম কেন্দ্রেও কাজ চলছে। ২০২৪ সালে নির্মিত ওই কেন্দ্রের একটি সংযুক্ত ভবনে (অ্যানেক্স) চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করার স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে।
সোমবার আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরসের সভায় সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইয়ংবিয়ন ও ক্যাংসন কেন্দ্রে পারমাণবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদানের উৎপাদন বাড়ানো অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের তৎপরতা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
তবে পিয়ংইয়ং শুরু থেকেই আইএইএর এই পর্যবেক্ষণ ও কর্তৃত্বকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ভিয়েনায় উত্তর কোরিয়ার মিশন থেকে সাফ জানানো হয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অবস্থান এখন চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয়। পারমাণবিক বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) বাইরে থাকা কোনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর কোনো আইনি অধিকার আইএইএর নেই।