অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দলের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন, নতুন নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর
বড় ধরনের নাটকীয়তা আর ভোটের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বিরোধী দল লিবারেল পার্টির নেতৃত্বে আমূল পরিবর্তন এসেছে। আজ শুক্রবার সকালে ক্যানবেরায় দলের সংসদীয় কমিটির ভোটাভুটিতে সুসান লিকে পরাজিত করে নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাঙ্গাস টেইলর। ৩৪-১৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসলেন।
অ্যাঙ্গাস টেইলরের এই জয়ের পরপরই সুসান লি রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০০৯ সাল থেকে নিউ সাউথ ওয়েলসের ‘ফারের’ আসনটি তাঁর দখলে ছিল। সুসান লি বলেছেন, তিনি এখন তাঁর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান এবং নিজের আজীবনের শখ বিমান চালনায় আরও বেশি মনোনিবেশ করতে চান। তাঁর এই আকস্মিক বিদায়ে ওই আসনে এখন উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
এদিকে দলের উপনেতা নির্বাচিত হয়েছেন ভিক্টোরিয়ার সিনেটর জেন হিউম। তিনি টেড ও’ব্রায়েনকে ৩০-২০ ভোটে পরাজিত করেন।
নতুন নেতৃত্ব অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সময় আজ বিকেলেই গণমাধ্যমের সামনে তাঁদের আগামীর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। জেন হিউম বলেন, তাঁরা লিবারেল পার্টিকে বাম বা ডানের সংকীর্ণতায় না আটকে বরং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। নতুন নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসনসংকটের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিবাসন নীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে টেইলর বলেন, অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থ রক্ষায় একটি স্বচ্ছ অভিবাসনব্যবস্থা প্রয়োজন। তাঁর মতে, যারা এ দেশের মূল্যবোধে বিশ্বাস করে, তারাই প্রকৃত অর্থে এ দেশের সম্পদ। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি দলের নতুন অভিবাসন নীতি প্রকাশ করবেন বলে জানান।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সুসান লির বিদায়ের ফলে শূন্য হওয়া ফারের আসনের উপনির্বাচন হবে অ্যাঙ্গাস টেইলরের জন্য প্রথম বড় পরীক্ষা। একদিকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হেলেন ডাল্টন এবং অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের বার্নাবি জয়েস এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে এখন নতুন এক মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।