বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০ শেয়ারবাজার

শেয়ার, ডেরিভেটিভস ও পণ্য লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রভাবিত করে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে স্টক এক্সচেঞ্জ। কখনো কখনো শেয়ারবাজার দেখেই বোঝা যায় একটা দেশের অর্থনীতির সার্বিক চিত্রও। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব এক্সচেঞ্জেসের (ডব্লিউএফই) প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের বৃহত্তম ১০ শেয়ারবাজারের তালিকা প্রকাশ করেছে সাময়িকী ফোর্বস ইন্ডিয়া। পাঠকের জন্য তা তুলে ধরা হলো:

নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শেয়ারবাজার নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ (এনওয়াইএসই)
ফাইল ছবি: রয়টার্স

বিশ্বের বৃহৎ ১০ শেয়ারবাজারের তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ (এনওয়াইএসই)। ১৭৯২ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠিত এ শেয়ারবাজারের বাজার মূলধন ৩ কোটি ১৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮৯৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি। এনওয়াইএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নানা বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে স্বীকৃত ব্র্যান্ড এনভিডিয়া, অ্যাপল, মাইক্রোসফট ও এইচডিএফসি ব্যাংক। নিরাপদ বাণিজ্যিক পরিবেশ এ এক্সচেঞ্জে প্রতিদিন শত শত কোটি লেনদেন আকর্ষণ করে, যা এটিকে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবকে পরিণত করেছে।

এনএএসডিএকিউ (নাসডাক)

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় শেয়ারবাজার নাসডাক
ফাইল ছবি: রয়টার্স

ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সিকিউরিটিজ ডিলার্স অটোমেটেড কোটেশনস বা নাসডাক বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শেয়ারবাজার। ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রযুক্তি ও প্রবৃদ্ধিভিত্তিক কোম্পানিগুলোর ওপর মনোযোগ দেওয়ার জন্য এটি পরিচিত। এ এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন ৩ কোটি ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি। টেসলা, মেটা, অ্যামাজনসহ বিশ্বের অনেক শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি এ শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত। এটির ইলেকট্রনিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম প্রাতিষ্ঠানিক ও খুচরা বিনিয়োগকারীদের দ্রুতগতির লেনদেনের সুবিধা দেয়।

সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ (এসএসই)

চীনের শেয়ারবাজার সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ (এসএসই)
ফাইল ছবি: রয়টার্স

সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ (এসএসই) শীর্ষ ১০ শেয়ারবাজারের মধ্যে তৃতীয়। এশিয়ার বৃহত্তম শেয়ারবাজারগুলোর একটি হিসেবে এসএসইর বাজার মূলধন প্রায় ৭১ লাখ ৭০ হাজার ৩৮২ মিলিয়ন ডলার। এটি চীনের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আগে এটি সাংহাই শেয়ারব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে পরিচিত ছিল, যা ১৮৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ছিল চীনের প্রথম ও বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন শেয়ারবাজার। ১৯৯০ সালের নভেম্বরে এটি সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। বছরের পর বছর এ শেয়ারবাজার বহু আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করেছে। স্টক, বন্ড ও তহবিল লেনদেনের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম।

জাপান এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (জিপিএক্স)

জাপানের শীর্ষ শেয়ারবাজার টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জ
ফাইল ছবি: রয়টার্স

জাপান এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (জেপিএক্স) টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জ ও ওসাকা সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ পরিচালনা করে। এ শেয়ারবাজার একীভূত করে ২০১৩ সালে জেপিএক্স প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ওসাকা এক্সচেঞ্জ একীভূত হওয়ার আগেও জাপানের আর্থিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বর্তমানে জেপিএক্সের বাজার মূলধন ৬৪ লাখ ১৫৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি। এটি এশিয়ার অন্যতম প্রধান শেয়ারবাজারে পরিণত হয়েছে। টয়োটা, সনি ও সফটব্যাংকের মতো বৃহৎ করপোরেশনগুলো জিপিএক্সে তালিকাভুক্ত।

ইউরোনেক্সট

ইউরোপের শীর্ষ শেয়ারবাজার গ্রুপ ইউরোনেক্সট
ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইউরোনেক্সট বিশ্বের শীর্ষ ১০ শেয়ারবাজারের মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। এটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজার। এটি ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইউরোনেক্সট আমস্টারডাম, ব্রাসেলস, ডাবলিন, মিলান, প্যারিস, লিসবন ও অসলোর সিকিউরিটিজ এবং ডেরিভেটিভসগুলো পরিচালনা করে। এটির বাজার মূলধন প্রায় ৫৬ লাখ ৮৭ হাজার ২২১ মিলিয়ন ডলার। ক্যাপজেমেনি, লোরেয়াল ও সানোফির মতো বিভিন্ন কোম্পানি ইউরোনেক্সটের তালিকাভুক্ত।

বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই)

ভারতের শীর্ষ শেয়ারবাজার বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই)
ফাইল ছবি: রয়টার্স

বিএসই এশিয়ার প্রাচীনতম ও বিশ্বের বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর একটি। ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এটির বাজার মূলধন ছিল প্রায় ৫৩ লাখ ৪০ হাজার মিলিয়ন ডলার। ১৮৭৫ সালের জুলাইয়ে ভারতে প্রতিষ্ঠিত বিএসই বিশ্বের শীর্ষ স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, সিপলা ও নেসলে ইন্ডিয়ার মতো বিখ্যাত কোম্পানিগুলো বিএসইতে তালিকাভুক্ত।

ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই)

ভারতের অন্যতম বড় শেয়ারবাজার ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই)
ফাইল ছবি: রয়টার্স

ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই) আধুনিক ও ইলেকট্রনিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থার জন্য পরিচিত। বিশ্বব্যাপী বৃহত্তম শেয়ারবাজারগুলোর একটি হিসেবে এটি ভারতের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ শেয়ারবাজারে ইকুইটি, ডেরিভেটিভস ও ঋণ উপকরণসহ বিভিন্ন সিকিউরিটিজ লেনদেন করা যায়। ইনফোসিস, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও টাটা মোটরসের মতো প্রধান কোম্পানিগুলো এনএসইতে তালিকাভুক্ত। ১৯৯২ সালের নভেম্বরে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ (এসজেডএসই)

চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ (এসজেডএসই) উদ্ভাবন ও দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য বিখ্যাত। এটির বাজার মূলধন ৪৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৮৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি। মাইডিয়া ও বিওয়াইডির মতো কোম্পানিগুলো এ শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত। উদ্যোক্তা চেতনা প্রচারের জন্য শেয়ারবাজারটি মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগের প্রতি বেশি মনোযোগ দেয়। লেনদেনে প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে অগ্রাধিকার দেয় এ শেয়ারবাজার। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

হংকং স্টক এক্সচেঞ্জ (এইচকেইএক্স)

বাজার মূলধনের ভিত্তিতে বিশ্বের বৃহৎ শেয়ারবাজারগুলোর তালিকায় নবম স্থানে রয়েছে হংকং স্টক এক্সচেঞ্জ (এইচকেইএক্স)। চীনের স্বশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে ১৮৯১ সালে স্টকব্রোকারদের সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এটি। যাঁরা এশীয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে চান, তাঁদের জন্য এ শেয়ারবাজার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো ও রিয়েল-টাইম তথ্য পরিষেবার জন্য বিখ্যাত এ শেয়ারবাজার।

১০

টিএমএক্স গ্রুপ (টিএসএক্স)

২০০৮ সালের মে মাসে কানাডায় প্রতিষ্ঠিত হয় টিএমএক্স গ্রুপ। মন্ট্রিল এক্সচেঞ্জ, টরন্টো স্টক এক্সচেঞ্জ ও টিএসএক্স ভেঞ্চার এক্সচেঞ্জের মতো স্টক এক্সচেঞ্জগুলো পরিচালনা করে টিএমএক্স গ্রুপ। বিশ্বের শীর্ষ ১০ শেয়ারবাজারের মধ্যে দশম অবস্থানে থাকা এ পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন ৩৫ লাখ ৭৩ হাজার ৩৩৫ মিলিয়ন ডলার।