ফলে মারাত্মক ধাক্কা খায় দেশটির পর্যটন খাত। এরপর ২০২০ সালে শুরু হয় করোনার সংক্রমণ। তখন পর্যটন একরকম বন্ধই হয়ে যায়। এর সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের অদূরদর্শিতার কারণে অর্থনৈতিক সংকট প্রকট হয়। দেউলিয়া হয়ে যায় দেশটি। গণবিক্ষোভের মুখে দেশ ছাড়তে হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষেকে।

দ্য ডিপ্লোম্যাটের তথ্যানুসারে, চলতি বছরের মার্চ মাসে শ্রীলঙ্কায় প্রায় এক লাখ সাত হাজার পর্যটক আসেন, ২০২১ সালের মার্চ মাসের তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। তবে মে মাসে দেশটিতে পর্যটক আসার পরিমাণ আবার কমে যায়। সে মাসে দেশটিতে পর্যটক আসেন ৩০ হাজার ২০৭ জন। তখন দেশটিতে চলছিল চরম রাজনৈতিক বিক্ষোভ, জ্বালানিসংকট মারাত্মক আকার ধারণ করে। স্বাভাবিকভাবেই তখন পর্যটক কমে যায়।

এই বাস্তবতায় শ্রীলঙ্কা সরকার পর্যটক আকর্ষণ করতে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় প্যাকেজ ঘোষণা করে। ভারতীয় পর্যটকদের আকর্ষণ করতে বিশেষ একটি পর্যটন স্পট উন্মুক্ত করেছে তারা। এতে কাজ হচ্ছে, কারণ আগস্ট মাস পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় আসা পর্যটকদের মধ্যে ১৬ শতাংশই ভারতীয়।

এমনকি তারা ইউরোপের পর্যটকদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ইউরোপীয় পর্যটকেরা পূর্ব ইউরোপে যাবেন না, সে জন্য তাঁদের আকর্ষণ করতে নানা ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। ইতিমধ্যে রাশিয়ার একটি বিমান সংস্থা কলম্বোয় সরাসরি উড়ান চালু করেছে।

এ ছাড়া আমিরাত এয়ারলাইনস, কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাইদুবাই শ্রীলঙ্কায় উড়ান সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। ফলে সেপ্টেম্বর মাসে শ্রীলঙ্কায় পর্যটকের সংখ্যা ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৪২ হাজার ২৬ জন, সেপ্টেম্বর মাসে যা ছিল ২৯ হাজার ৮০২ জন। কর্তৃপক্ষ বলছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ পর্যটক শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ করেছেন। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে আরও দুই লাখ পর্যটক আসবেন বলে ধারণা করছে তারা।

সম্প্রতি দেশটিতে পর্যটক আগমন বাড়লেও তা এখনো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম। একসময় সে দেশে বছরে ১০ লাখ পর্যটক আসতেন এবং সেখান থেকে রাজস্ব আয় হতো ২০০ কোটি ডলার। 

তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, শ্রীলঙ্কা সঠিক পথেই আছে। দেশটি যে পথে যাচ্ছে তাতে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে দেশটিতে ২০ লাখ পর্যটক আসবেন এবং ২০০ কোটি ডলার রাজস্ব আয় হবে।

তবে সবকিছু নির্ভর করবে দেশটির রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতির ওপর, কারণ অনিশ্চয়তার মধ্যে বিদেশি পর্যটকেরা আসবেন না, এটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সেই সঙ্গে দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারকে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ঠিকঠাক করতে হবে। তা না হলে আবারও বিপদে পড়ে যেতে পারে শ্রীলঙ্কা, বিশ্লেষকেরা তেমনটাই মনে করেন।