মস্কোভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরগুমেন্টি আই ফ্যাকটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ বলেছেন, ‘সেনা সমাবেশে আমাদের দেশে নতুন সেনাদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় আধুনিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়গুলো পুরোপুরি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এ জন্যই আমাকে এসব বিষয় ঠিক করতে হয়েছে।’

রাশিয়ার বিরুদ্ধে সৃষ্ট নিরাপত্তা হুমকির বিষয়টি মাথায় রেখে জানুয়ারির মাঝামাঝিতে সামরিক বাহিনীতে সংস্কার আনার এ ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

প্রধান নিরাপত্তা হুমকিগুলোর বিষয়েও কথা বলেছেন জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে এসব (নিরাপত্তা) হুমকির মধ্যে ন্যাটোর পরিধি ফিনল্যান্ড ও সুইডেন পর্যন্ত সম্প্রসারণের আকাঙ্ক্ষা যেমন রয়েছে, তেমনি ইউক্রেনকে ব্যবহার করে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে একটা কৃত্রিম যুদ্ধ শুরু করার মতো হুমকিও আছে।’

ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলা শুরুর পর ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটোর সদস্য হতে গত বছরই আবেদন করে। তবে দেশ দুটি এখনো সদস্যপদ পায়নি।

যেভাবে সংস্কার হবে

সামরিক বাহিনীতে কীভাবে সংস্কার আনা হবে, তার ইঙ্গিত দিয়েছেন জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ। তিনি বলেছেন, মস্কো ও লেনিনগ্রাদে অতিরিক্ত দুটি মিলিটারি ডিস্ট্রিক্ট (সামরিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত) গঠনের পরিকল্পনা আছে। এ ছাড়া ইউক্রেনের খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে অভিযান চালানোর জন্য তিনটি ‘মোটরাইজড রাইফেল ডিভিশন’ গঠন করা হবে। যুদ্ধে প্রতিপক্ষ সেনাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে নিয়ে এই ডিভিশন গঠন করা হয়।  

ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর ধারণা করা হয়েছিল, রাশিয়া কিছু দিনের মধ্যে যুদ্ধে ‘জয়ী’ হবে। কিন্তু তা হয়নি। উল্টো যুদ্ধে সেনাদের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সমালোচনার মুখে পড়ে। কিন্ত এ যুদ্ধে ‘জয়ী’ হওয়া যে সহজ নয় পারতপক্ষে সেটা স্বীকার করলেন জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ। তিনি বলেন, আধুনিক রাশিয়া কখনো শত্রুদের দিক থেকে এত তীব্র সামরিক বৈরিতার মুখে পড়েনি। এ কারণে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে রুশ বাহিনী বেপরোয়া অভিযান চালাতে বাধ্য হয়।    

এর কারণ ব্যাখ্যা করে জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ বলেন, ‘আমাদের দেশ ও সশস্ত্র বাহিনীকে আজ একজোট হওয়া সমগ্র পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করাই আমাদের সামরিক বাহিনীতে সংস্কার আনার প্রধান লক্ষ্য।’