যুদ্ধ,খরায় ক্ষুধা বৃদ্ধির শঙ্কা

  • ৪৭টি দেশের ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে।

  • যুদ্ধ ও ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও ক্ষুধার ঝুঁকি বেড়েছে।

  • সহায়তার তহবিল কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

দাতব্য প্রতিষ্ঠানের রান্না করা খাবার পেতে পাত্র সামনে বাড়িয়েছে এক ফিলিস্তিনি শিশুফাইল ছবি রয়টার্স

যুদ্ধ, খরা এবং ত্রাণের পরিমাণ কমে যাওয়ায় ২০২৬ সালেও বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার পরিস্থিতি সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকবে। বিশেষ করে বিশ্বের সবচেয়ে নাজুক দেশগুলোতে খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষুধা নিয়ে ‘২০২৬ খাদ্যসংকট-সংক্রান্ত বৈশ্বিক প্রতিবেদনে’ এমনটাই অনুমান করা হয়েছে।

উন্নয়ন ও মানবিক সংস্থাগুলোর একটি জোটের প্রকাশিত ক্ষুধার বৈশ্বিক সূচকের দশম সংস্করণ অনুসারে, গত এক দশকে তীব্র ক্ষুধার হার দ্বিগুণ হয়েছে। ক্ষুধা নিয়ে ‘২০২৬ খাদ্যসংকট-সংক্রান্ত বৈশ্বিক প্রতিবেদনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত বছর দুটি অঞ্চল—গাজা ও সুদানে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে।

২০২৫ সালে মোট ৪৭টি দেশ ও অঞ্চলের ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে হাইতি, মালি, গাজা, দক্ষিণ সুদান, সুদান ও ইয়েমেনের প্রায় ১৪ লাখ মানুষ চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।

শুধু ২০২৫ সালেই বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ৫৫ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে।

চলতি বছরের পূর্বাভাস দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা এখনো সংকটাপন্ন। তবে নিরাপত্তাব্যবস্থার সামান্য উন্নতি এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির ফলে একমাত্র হাইতি চরম ‘বিপর্যয়কর’ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তাকারী জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) প্রধান আলভারো লারিও বলেন, ‘আমরা এখন আর শুধু সাময়িক কোনো ধাক্কা দেখছি না, বরং দীর্ঘস্থায়ী সংকট দেখছি।’

আলভারো লারিও আরও বলেন, ‘মূল বার্তাটি হলো—খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।’

ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করতে পারে

লারিও সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জ্বালানি ও সার-বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে তা বিশ্ব খাদ্যবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে ক্ষুধার তীব্রতা আরও বাড়বে।

আইএফএডির প্রধান আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যদি এখনই থেমে যায়, তবু আমরা জানি, আগামী ছয় মাস খাদ্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতির ধাক্কা অব্যাহত থাকবে।’

এই সাম্প্রতিক যুদ্ধের চাপের আগেই পশ্চিম আফ্রিকা ও সাহেল অঞ্চল, বিশেষ করে নাইজেরিয়া, মালি, নাইজার এবং বুরকিনা ফাসো সংঘাত ও ক্রমাগত মূল্যস্ফীতির কারণে প্রবল চাপে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে নাইজেরিয়ায় খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা সবচেয়ে বেশি বাড়বে, যেখানে নতুন করে আরও ৪১ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে পড়তে পারে।

পূর্ব আফ্রিকায় হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সোমালিয়া ও কেনিয়ায় দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেখানে খরা, নিরাপত্তাহীনতা, উচ্চমূল্য ও মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে পরিস্থিতির চরম অবনতি হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, সংকটাপন্ন দেশগুলোর খাদ্য খাতে মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তা ২০২৫ সালে ব্যাপকভাবে কমেছে এবং এটি আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর মানবিক খাদ্যসহায়তা কমেছে প্রায় ৩৯ শতাংশ এবং উন্নয়ন সহায়তা কমেছে অন্তত ১৫ শতাংশ।