ঘোড়া নিয়ে ফ্ল্যাটে থাকেন তাঁরা

ফ্ল্যাটের সোফায় ঘুমায় ঘোড়াশাবক মাইলছবি: এপির ভিডিও থেকে নেওয়া

ক্রোয়েশিয়ার উত্তর উপকূলীয় শহর রোভিঞ্জ। সেখানে একটি বহুতল ভবনের পঞ্চম তলার একটি অ্যাপার্টমেন্টে কয়েক দিন আগে নতুন এক বাসিন্দার আগমন ঘটেছে, যাকে নিয়ে অন্যান্য বাসিন্দার কৌতূহলের সীমা নেই।

নতুন ওই বাসিন্দা কোনো মানুষ নয়, একটি এক মাস বয়সী ছোট্ট ঘোড়াশাবক, নাম মাইল।

ঘোড়ার থাকার কথা আস্তাবলে, তবে কেন আস্তাবল ছেড়ে ছোট্ট মাইলকে অ্যাপার্টমেন্টে এসে মানুষের সঙ্গে বসবাস করতে হচ্ছে? এর কারণ, জন্মের পর মাইলকে তার মা গ্রহণ করেনি।

একটি সংক্রমণের কারণে সদ্যোজাত মাইলের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল। জীবন বাঁচাতে প্রতিবেশী দেশ স্লোভেনিয়ায় নিয়ে শাবকটির অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। মাইলের চিকিৎসার খরচ মেটাতে বহু মানুষ অনুদান দিয়েছেন।

অস্ত্রোপচারের পর মাইলের সার্বক্ষণিক যত্নের প্রয়োজন হচ্ছে। সেটির মালিক তাই কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি। মাইলকে তিনি সোজা নিজের অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যান।

মাইলের মালিকের নাম আন্দিয়েলকা ইয়োসিপোভিচ। তিনি বলেন, ‘প্রতি দুই ঘণ্টা পর আমরা তার জন্য দুধ গরম করি এবং তাকে খাওয়াই। যদি কখনো তাকে খাওয়াতে ভুলে যাই, তাহলে সে নিজেই জেগে ওঠে, আমাদের কাছে আসে এবং ঘুম থেকে ডেকে তোলে।’

আন্দিয়েলকা ইয়োসিপোভিচ এক বেডরুমের একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন। তাঁর পার্টনার ক্রিস্তিয়ান ইয়েলেনিচ, তাঁদের দুই ছেলে ও একটি পোষা কুকুরও ওই অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করে।

ব্যতিক্রমী বাসিন্দাকে ঘিরে প্রতিবেশীদের মধ্যে বেশ কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এ নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।

একদিন মাইল পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা ইয়োসিপোভিচের। তিনি বলেন, সে এখন ভালোভাবে খাচ্ছে। তার ওজনও এক কেজি বেড়েছে। তার মধ্যে দুধ পান করার, খাওয়ার এবং লড়াই করে টিকে থাকার প্রবল ইচ্ছা দেখা যাচ্ছে। সে এখন বেশ চনমনে ও প্রাণবন্ত আছে।

গুরুতর অসুস্থ মাইলকে নিয়ে যখন ‘যমে–মানুষে’ টানাটানি চলছিল, সেই সময়ের স্মৃতি স্মরণ করে এই নারী আরও বলেন, ‘প্রথম রাতে পশুচিকিৎসক মনে করেছিলেন, তাকে বাঁচানোর আর কোনো আশা নেই। তিনি তাকে মেরে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি বলেছিলাম, “চলুন, অন্তত সকাল পর্যন্ত চেষ্টা করে দেখি।”’

পরিবারটি রোভিঞ্জ থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) দূরের বালে এলাকায় একটি ছোট খামার পরিচালনা করে। তাদের খামারে লামা, শূকর, ঘোড়া, ভেড়াসহ বিভিন্ন প্রাণী রয়েছে।

মাইল দিনের বেলা খামারের অন্য প্রাণীদের সঙ্গে থাকে, তবে সন্ধ্যায় সে ক্রোয়েশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র রোভিঞ্জে ফিরে আসে। পরিবারটির গাড়ির পেছনের আসনে চড়ে সে যাতায়াত করে। অ্যাপার্টমেন্টে সে কখনো ম্যাট্রেসে, কখনো সোফায় ঘুমায়। পরিবারটি রোভিঞ্জের একটি আবাসিক এলাকায় বসবাস করে।

ক্রিস্তিয়ান ইয়েলেনিচ বলেন, এখন মাইলকে বাড়িতে রাখা কোনো কুকুর বা অন্য কোনো পোষা প্রাণীকে রাখার মতোই। কারণ, সে এখনো তুলনামূলকভাবে ছোট—তার ওজন মাত্র ১৬ কেজি।