ট্রাম্পের ঘোষণার পর এবার রাশিয়া–চীন যৌথ নৌ মহড়া
তিন দিনের যৌথ নৌ মহড়ায় সাবমেরিন উদ্ধার ও সাবমেরিন প্রতিহতের বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্ব পাবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের একটি পোস্টে ভীষণ ক্ষুব্ধ হন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার জলসীমার কাছাকাছি দুটি পারমাণবিক সাবমেরিন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান তিনি। ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি রাশিয়া। তবে আজ রোববার থেকে চীনের সঙ্গে জাপান সাগরে তিন দিনের যৌথ নৌ মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া। এই মহড়ায় সাবমেরিন উদ্ধার ও সাবমেরিন প্রতিহতের বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।
‘পৃথিবীর মহাসাগরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েন করে রেখেছে রাশিয়া।’
এএফপির খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিংয়ের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করেছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে যৌথ নৌ মহড়া শুরু করেছে দুই দেশ।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মহড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এবারের নৌ মহড়ার নাম ‘যৌথ সমুদ্র–২০২৫’। রাশিয়ার ভ্লাদিভস্টক বন্দরে জাপান সাগরে এ মহড়া শুরু হয়েছে। সাবমেরিন উদ্ধার, যৌথ অ্যান্টি–সাবমেরিন, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সমুদ্রপথে যুদ্ধমহড়ায় প্রাধান্য পাবে। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তাদের চারটি জাহাজ মহড়ায় অংশ নিয়েছে। গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী জাহাজ শাওসিং ও উরুমকি রুশ জাহাজগুলোর সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। মহড়া শেষে দুটি দেশ প্রশান্ত মহাসাগরের ‘সংশ্লিষ্ট জলসীমায়’ নৌ টহল দেবে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোতে ট্রাম্পের পারমাণবিক সাবমেরিন পাঠানোর ঘোষণাকে বেশ অবজ্ঞার সুরে উপস্থাপন করা হয়েছে। মাস্কোভস্কি কোমসমোলিয়েতস পত্রিকাকে একজন সামরিক বিশ্লেষক বলেছেন, ট্রাম্প শুধু রাগের মাথায় শিশুসুলভ মেজাজ দেখাচ্ছেন। আবার কমেরসান্ত পত্রিকাকে একজন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বলেন, সাবমেরিন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথাবার্তা নিরর্থক প্রলাপ। তিনি এসব বলে মজা পান। একই পত্রিকাকে রাশিয়ার একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, ট্রাম্প (সাবমেরিন পাঠানো বিষয়ে) প্রকৃতপক্ষে কোনো নির্দেশই দেননি।’
কমেরসান্ত পত্রিকায় ২০১৭ সালের কথা উল্লেখ করে আরও বলা হয়, ট্রাম্প সেবার উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করার জন্য কোরীয় উপদ্বীপে দুটি পারমাণবিক সাবমেরিন পাঠানোর কথা বলেছিলেন। এর কয়েক দিন পরই উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং–উনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তবে রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ও পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটস (সিআইএস) কমিটির উপপ্রধান ভিক্তর ভোদোলাতস্কি বলেছেন, পৃথিবীর মহাসাগরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েন করে রেখেছে রাশিয়া।
এই আইনপ্রণেতার দাবি, মার্কিন সাবমেরিনগুলো অনেক আগেই তাঁদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। তাই আলাদাভাবে কোনো জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।