এই অক্টোবর যে কারণে চীনের মাস

১৬ অক্টোবর চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেস। এ নিয়ে দেশটিতে যতটা আগ্রহ, তার চেয়ে বেশি উত্তেজনা পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে।

বেইজিংয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরে পর্দায় দেখানো হচ্ছে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ছবি। পাশেই ছবি তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন একদল দর্শনার্থী
ফাইল ছবি: রয়টার্স

সাম্যবাদী রাজনীতিতে ‘২০’ সংখ্যাটা ঐতিহাসিক বিতর্কের এক আন্তর্জাতিক প্রতীক। সোভিয়েত আমলে কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেসকে চিহ্নিত করা হয় বিশ্ব সাম্যবাদী আন্দোলনে ‘সংশোধনবাদ’ ঢুকে পড়ার মুহূর্ত হিসেবে। আবার কেউ কেউ তাকে স্তালিনীয় ঐতিহ্য থেকে মুক্তিচেষ্টার ‘কংগ্রেস’ হিসেবেও চিহ্নিত করে।

১৯৫৬ সালে ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই কংগ্রেসে তখনকার সোভিয়েতের নতুন নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ বিশ্বকে চমকে দিয়ে পূর্বসূরি জোসেফ স্তালিনের সমালোচনা করে ভাষণ দেন। সে ভাষণ পরে ‘অন দ্য কাল্ট অব পারসোনালিটি’ (ব্যক্তিবাদ প্রসঙ্গে) নামে ব্যাপক প্রচার হয়। ওই সময় থেকে বিশ্ব সাম্যবাদী আন্দোলনে পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বের সঙ্গে নমনীয় হয়ে পাশাপাশি বসবাসের মনোভাব শক্তপোক্ত হতে থাকে। এসব নিয়ে বহুত কাজিয়া আছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট সাহিত্যেও। ক্রুশ্চেভ আর স্তালিনকে নিয়ে মজার কৌতুকও আছে।

এই মুহূর্তে বিশ্বে আর সোভিয়েত ইউনিয়ন নেই। কিন্তু ‘২০তম কংগ্রেস’ কথাটা আবারও ফিরে এল কৌতূহলোদ্দীপক এক চরিত্র হয়ে। এ মাসের ১৬ তারিখে বসছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) ২০তম কংগ্রেস। এ নিয়ে গণচীনে যতটা আগ্রহ, তার চেয়ে বেশি উত্তেজনা চলছে পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে।

তার কারণ বোধ হয় এই—সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেস থেকে ব্যক্তিবাদ কমে এলেও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেস হতে যাচ্ছে ব্যক্তিবাদের তুমুল এক ঢেউয়ের মধ্যে। পাশাপাশি, সিসিপি নেতা সি চিন পিংকে নিয়ে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রের যতটা কৌতূহল, তার চেয়ে বেশি হয়তো উদ্বিগ্ন। যেন তিনি তাদের মসনদ কেড়ে নিতে চান এবং সক্ষম!

এক শ বছর পেরোল যে দল

ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) এবং চীনের সিসিপি হলো বর্তমান বিশ্বের বৃহৎ দুই দল। আরএসএস অবশ্য একটি দলের চেয়েও বেশি কিছু। এ দুই দলের রাজনীতি ও সিদ্ধান্ত কেবল পৌনে তিন শ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করছে না, পুরো বিশ্বের জন্যই তা নজরে রাখার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু উভয় দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কাজকারবারে ব্যাপক গোপনীয়তা আছে।

আরএসএসের ১০০ বছর পূর্ণ হবে ২০২৫ সালে। এখনকার মতো ক্ষমতায় থেকেই তারা এই উৎসব করতে চায়। সিসিপিও গত সাত দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায়। গত বছর ক্ষমতায় থেকেই সেঞ্চুরি উদ্‌যাপন করেছে। তখন থেকে চীনের নেতারা বলছেন, দলের ২০তম কংগ্রেস হবে ভিন্ন ধাঁচের, শতাব্দী উদ্‌যাপনের ব্যাপকতা থাকবে সেখানে।

চীনের রাজনীতিতে ‘পার্টি কংগ্রেস’ প্রতি পাঁচ বছরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আয়োজন। এবার তাতে নতুন উপাদান শত বছর পূর্তি উদ্‌যাপনের আমেজ। এবারের কংগ্রেস ঘিরে কৌতূহলের বড় জায়গা পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সি চিন পিংয়ের মেয়াদ বাড়বে কি না—সেটা। সির ক্ষমতায় থাকার বাসনার পরিণতি ছাড়াও সিসিপি কীভাবে আগামী বিশ্বকে দেখতে চাইছে, তারও কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাবে কংগ্রেসে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলবে এ আয়োজন।

 ‘যৌথ নেতৃত্ব’ পাল্টে ব্যক্তিবাদ

চীনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস। দেশটির ‘পার্লামেন্ট’ সেটা। ‘একদলীয় শাসনে’র দেশ হিসেবে সিসিপি চীনের পার্লামেন্টে সর্বেসর্বা। যিনি সিসিপির কংগ্রেসে প্রধান নেতা হবেন, পিপলস কংগ্রেসের মাধ্যমে দেশের প্রেসিডেন্ট তিনিই হবেন—এটা ধরে নেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর পিপলস কংগ্রেসে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্টকে সত্যায়ন করা হবে। সি এবার আবারও সিসিপির সাধারণ সম্পাদক হলে আগামী বছর তিনিই পিপলস কংগ্রেসে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনুমোদন পাবেন।

সি ইতিমধ্যে দুই মেয়াদে ১০ বছর প্রেসিডেন্ট থাকলেন। দুই মেয়াদের বেশি এই পদে থাকা যেত না আগে। সি সেই আইন ২০১৮ সালে পাল্টে নেন। এ থেকেও ধারণা হচ্ছে, তৃতীয় দফা প্রেসিডেন্ট হতে চান তিনি। যদি সি আরেক দফা চীনের প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে তিনি হবেন মাও সে–তুংয়ের পর দীর্ঘ সময় দলটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে থাকা ব্যক্তি।

তাঁকে মাওয়ের সম-উচ্চতায় সম্মান দেখানোর লক্ষণও আছে সেখানে। ১৯৫৬ সালের সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে ক্রুশেভ ব্যক্তিবাদের বিপক্ষে যা যা বলেছিলেন, চীনে এখন সেসব আলামত দেখা যাচ্ছে। সি চিন পিংয়ের নামের সঙ্গে ইদানীং ‘দলের মূল নেতা’ কথাটা যুক্ত থাকে তাদের প্রচারমাধ্যমে। ‘সি চিন পিংয়ের চিন্তাধারা’ নামে একটা কথাও শোনা যায় মাঝেমধ্যে। যা মাও সে–তুংয়ের বেলায় শোনা যেত।

২০১৮ সালে সি দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর চীনের কেন্দ্রীয় টিভির সম্প্রচারের দেখা যাচ্ছিল, পিপলস কংগ্রেসের কোনো কোনো সদস্য আনন্দে কাঁদছেন! এসবই পূর্বেকার বড় নেতা দেং জিয়াওপিংয়ের নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত। তিনি চাইতেন ব্যক্তিবন্দনার বদলে ‘যৌথ নেতৃত্ব’। আর সি পরিণত হচ্ছেন ‘সর্বক্ষমতাময় চেয়ারম্যান’–এ।

মাও এবং দেংয়ের পর সির আমলে চীনের আরেক পরিবর্তন হলো বহির্বিশ্বে দেশটির প্রতি বিরূপ মনোভাবের বাড়বাড়ন্ত চলছে। এটা কেবল ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে নয়—ভারত, কোরিয়া, জাপানেও। এসব দেশের সঙ্গে চীনের পারস্পরিক কূটনীতিক ভাষার শব্দ চয়নেও অশোভন ছাপ আছে। দেশের ভেতরও ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতায় তালা লাগানো জোর কদমে চালু আছে। ২০তম কংগ্রেসের প্রস্তুতিকালেই গত সেপ্টেম্বরে দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘উইবো’তে হঠাৎ হাওয়া হয়ে গেল বেইজিংয়ের চিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক লাও ডংইয়ংয়ের অ্যাকাউন্টের তাবৎ লেখালেখি।

চার লাখ অনুসারীর অধ্যাপক লাওকে দুই বছর ধরে মহামারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপের সমালোচনা করতে দেখা যায়। মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা-প্রযুক্তিরও বিরোধী ছিলেন তিনি। অধ্যাপক লাওয়ের পরবর্তী পরিণতি কী হবে বলা যায় না। তবে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের আরেক অধ্যাপক শু ঝাংরুন সরকারের সমালোচনা করে ২০ বছরের চাকরি খুইয়েছেন ২০২০ সালের-জুলাইয়ে। এই সবই চীনের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নতির সহযাত্রী হিসেবে আছে। তবে সির মতো বড় নেতাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা সচরাচর স্থানচ্যুত হন ‘দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে’।

কংগ্রেস ২৫ চীনা শাসক বাছাই করবে

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য এখন ৯ কোটি ৬০ লাখ। এবার কংগ্রেসে আসছে কেবল ২ হাজার ২৯৬ জন প্রতিনিধি। এর মধ্যে নারী থাকবেন ৬১৯ জন (২৭ শতাংশ)। ৩৪টি প্রদেশ এবং স্বায়ত্তশাসিত সব অঞ্চল থেকে আসা এই প্রতিনিধিদের গড় বয়স ৫২ বছর। ৯৭ শতাংশই ১৯৭৮ সালের পর পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। তার মানে চীনের বাজারমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যেই এঁদের বেড়ে ওঠা। প্রতিনিধিদলে কৃষি পেশার মানুষ থাকবেন মাত্র ৮৫ জন।

সব প্রতিনিধি মিলে দুই ধরনের কাজ করবেন, সাংগঠনিক ও তাত্ত্বিক। ‘তাত্ত্বিক’ বিষয়ের মধ্যে এই কংগ্রেস আন্তর্জাতিক সম্পর্ক থেকে শুরু করে দেশের বাজারের খাদ্যপণ্যের দাম পর্যন্ত সব বিষয়ে মনোযোগ দেবে। পার্টির মতাদর্শে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে সেটিও কংগ্রেসেই সিদ্ধান্ত হবে। সি ২০২১ সাল থেকে মানুষের আয়বৈষম্য কমাতে তৎপর আছেন। সিসিপি সাহিত্যে এ তত্ত্বের শিরোনাম ‘যৌথ সমৃদ্ধি’।

সির আগের আমলে চীন ‘ডাবল ডিজিট’ প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিলেও এখন জনগণের সব অংশকে উন্নত জীবনধারায় নেওয়াকে প্রধান ব্যবহারিক কাজ হিসেবে দেখছে। সে জায়গা থেকেই ‘আলী বাবা’সহ কয়েকটি কোম্পানির ওপর চড়াও হয়েছিলেন সি। চীনের বড় কোম্পানিগুলো ওই অভিজ্ঞতা থেকে এবারের কংগ্রেসের দিকে সতর্ক নজর রাখছে।

সির শাসনামলে চীন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঠান্ডাযুদ্ধে নেমেছে, এ–ও সিসিপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেরই অংশ ছিল। অর্থনীতিতে যেভাবে তারা প্রধান লক্ষ্য পাল্টে নিয়েছে, প্রতিরক্ষার বেলায়ও সে রকম ঘটানো হয়। যেকোনো মূল্যে দেশটি তার সামরিক সামর্থ্য বাড়াচ্ছে এবং বাড়াবে।

এ বিষয়ে যে কারও সঙ্গে সম্পর্ক শীতল হওয়ার ঝুঁকিতে যাবে সিসিপি। ‘যৌথ সমৃদ্ধি’র পর এটা হলো তাদের দ্বিতীয় অগ্রাধিকার—যাকে তাত্ত্বিকভাবে বলা হচ্ছে ‘আত্মনির্ভরশীল’ হওয়া। চীন যে তাইওয়ানে এখনো হস্তক্ষেপ করেনি এবং দুর্ঘটনাজনিত কোনো যুদ্ধেও জড়াতে চায় না, সেটা এই ইঙ্গিত দেয় সামরিকভাবে পুরোপুরি সক্ষমতা অর্জনের জন্য বাকি পথ শেষ করতে চায় তারা কোনো বিঘ্ন ছাড়া। এ লক্ষ্য অর্জনে তাদের শেষ ডেটলাইন ২০৩৫। ২০১৭ সালে এই সময়রেখা ঠিক করা হয়।

সির এবারের উদ্বোধনী ভাষণে ‘আত্মনির্ভরশীলতা’ তত্ত্বেরও পরবর্তী দিকনির্দেশনা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক বিষয়ের পাশাপাশি অর্থনীতির আন্তর্জাতিক জগতেও আত্মনির্ভরশীলতার ছাপ রাখবে তারা। যার অংশ হিসেবে নিজস্ব সরবরাহব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) গড়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে চীন। বিপুল ধাঁচে পণ্য উৎপাদনের কয়েক যুগ শেষে তারা এখন সাপ্লাই চেইনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায়।

রাজনৈতিক-অর্থনীতি এবং সমর খাতের বাইরে দেশের প্রশাসনের জন্যও পার্টি কংগ্রেস থেকে অনেক জরুরি বার্তা থাকবে। কংগ্রেস প্রতিনিধিরা প্রথমে বাছাই করবেন কেন্দ্রীয় কমিটির ২০৪ সদস্য। এই সদস্যরা পরে নির্বাচিত করবে ২৫ সদস্যের পলিটব্যুরো।

এটাকেই চীনের মন্ত্রিসভা বলা যায়। এরাই ক্ষমতার ভরকেন্দ্র। কেন্দ্রীয় কমিটি পার্টির সাধারণ সম্পাদক তথা সর্বোচ্চ নেতাও নির্বাচিত করে। সি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে থেকে গেলে পলিটব্যুরোর ২৫ জন তাঁকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য ৭ জন উপদেষ্টাও বাছাই করবেন। যাকে বলা হয় ‘স্ট্যান্ডিং কমিটি’। এসব নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ২০৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিশনেরও প্রভাব থাকে। এই কমিশন, পলিটব্যুরো ও স্ট্যান্ডিং কমিটি মিলে ১৪১ কোটি মানুষকে আগামী পাঁচ বছর পরিচালনা ও শাসন করবে।

স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যদের বয়স ৬৮ বছরের নিচে থাকার বাধ্যবাধকতা আছে। তবে চলতি ২০তম কংগ্রেসের সময় খোদ সি চিন পিংয়ের বয়স হবে ৬৯ বছর। তার মানে ‘নিয়ম’ যেমন আছে, ব্যতিক্রমও আছে। কংগ্রেস হয়তো ‘ব্যতিক্রম’কে ন্যায্যতা দিতে বয়সের নীতি সংশোধন করবে। স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যসংখ্যাও বাড়তে কমতে পারে।

সির তৃতীয় মেয়াদে নতুন এক গণচীন?

সিসিপির কংগ্রেসে কারা কারা গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছে, আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমের অন্যতম আগ্রহের বিষয় সেটি এখন। কিন্তু চীনের অভ্যন্তরে কংগ্রেস তার চেয়েও বেশি কিছু। সেখানে নজর রাখা হয় ‘পার্টি’ সামাজিক-আর্থিক খাতে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কংগ্রেসের শুরুতে সি চিন পিং যে বক্তৃতা দেবেন, তাতে দেশবাসীর জন্য অনেক ইঙ্গিত থাকবে।

গত কংগ্রেসে ৬৯ পাতার এ রকম ‘রাজনৈতিক প্রতিবেদন’ পাঠ শেষ হয় সাড়ে তিন ঘণ্টায়। এবারও উদ্বোধনী দিনে সে রকম কিছুই হবে। আন্তর্জাতিক ঠান্ডাযুদ্ধ এবং তাইওয়ানকেন্দ্রিক উত্তেজনার মধ্যে সি কঠোর এক ভবিষ্যতের চিত্রই আঁকতে যাচ্ছেন বলে আঁচ করা যাচ্ছে।

দলের ১০০ বছর এবং প্রধান নেতা হিসেবে নিজের তৃতীয় মেয়াদে সির চীন যে জোরেশোরে বিশ্বমুরুব্বি হিসেবে নিজের স্বীকৃতি চাইবে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে তাইওয়ানের ব্যাপারে সির সিদ্ধান্ত কী হবে, সেটা বাকি বিশ্বের বড় এক উৎকণ্ঠার জায়গা।

তবে চীনা সমর দার্শনিক সান জুর দ্য আর্ট অব ওয়ার যাঁরা পড়েছেন, তাঁরা জানবেন: তাইওয়ানে চীনের হস্তক্ষেপ হলে সেটা ঘটবে একদম উত্তেজনাহীন সময়ে। ২০২২ সাল কোনোভাবেই সেই বছর নয়। তবে ২০তম কংগ্রেসের পরের সি–কে বিশ্ব দেখবে আরও বেশি নেতৃত্বপ্রত্যাশী চীনের সর্বাধিনায়ক হিসেবে। সে কারণে সির তৃতীয় মেয়াদে ‘ঠান্ডাযুদ্ধ’ সামান্যই ঠান্ডা থাকবে।

মনে রাখতে হবে, তাইওয়ান ‘চীনের স্বপ্নে’র অংশ। পার্টির সাধারণ সম্পাদক, দেশের প্রেসিডেন্ট এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে সি–কে অবশ্যই প্রলুব্ধ করে যাবে ওই ‘স্বপ্ন’ এবং ২০২৭ সালের মধ্যে চীনের সামরিক আধুনিকায়নের বড় অংশ শেষ হবে। এর মধ্যে ওয়াশিংটনও হয়তো তাইপেকে অসম এক সংঘাতের জন্য তৈরি করা অব্যাহত রাখবে। কমিউনিস্ট ঐতিহ্যের ‘২০তম কংগ্রেস’ এভাবেই ইতিহাসে আবারও মোড় বদলে দেওয়া সময় নিয়ে হাজির হলো বেইজিংয়ে।

 আলতাফ পারভেজ ইতিহাস বিষয়ে গবেষক