দ্রুতগতির চিতার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় ইউটিউবার
সবচেয়ে দ্রুতগতিতে দৌড়ায় কোন প্রাণী—সবাই এক শব্দে এ প্রশ্নের উত্তরে বলবেন, ‘চিতা’। এই চিতার সঙ্গেই দৌড় প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন ড্যারেন ওয়াটকিন্স। ২০ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় ইউটিউবার ও ভিডিও স্ট্রিমার ৩ জানুয়ারি চিতার সঙ্গে তাঁর দৌড়ের একটি ভিডিও ইউটিউবে প্রকাশ করেছেন।
ওয়াটকিন্সের ইউটিউব চ্যানেলের নাম ‘স্পিড’। তিনি ‘@আইশোস্পিড’ (@IShowSpeed) নামে নানা ধরনের ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করেন। তাঁর এসব দুঃসাহসী ও অদ্ভুত চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে তিনি নেটিজেনদের হতবাক করে দেন।
চিতার সঙ্গে তাঁর দৌড়ের ভিডিওটিও বহু মানুষকে অবাক করেছে। এতে দেখা যায়, দৌড়ের মাঠে তাঁর সঙ্গে একটি পূর্ণবয়স্ক চিতা দাঁড়িয়ে। ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আজ আমি এই চিতার সঙ্গে দৌড়াব।’
দৌড় শুরুর আগে অবশ্য অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটে যায়। চিতাটি হঠাৎ করেই ওয়াটকিন্সের ঊরুতে আঁচড় দিয়ে বসে। এতে তাঁর ঊরুতে ক্ষত তৈরি হয়। তবে এতে দমে না গিয়ে আহত অবস্থায়ও অদ্ভুত প্রতিপক্ষের সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় নামার সিদ্ধান্ত নেন ওয়াটকিন্স।
দুই প্রতিযোগী স্টার্টিং লাইনে দাঁড়িয়ে, চিতা খাঁচার ভেতর। এক...দুই...তিন...। খাঁচার মুখ খুলে দিলে প্রচণ্ড গতিতে সামনে দৌড়াতে শুরু করে চিতা। ওয়াটকিন্সও প্রাণপণে চার পেয়ে প্রাণীটির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়াতে শুরু করেন।
চিতা পৃথিবীর দ্রুততম স্থলচর প্রাণী। এটি ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে দৌড়াতে পারে। সে তুলনায় মানুষের সর্বোচ্চ রেকর্ড গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৪ দশমিক ৭২ কিলোমিটার। জ্যামাইকার কিংবদন্তি স্প্রিন্টার উসাইন বোল্ট ২০০৯ সালে এই গতিতে দৌড়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। তিনি ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করেছিলেন।
ওয়াটকিন্স যে চিতাকে দৌড়ে হারাতে পারবেন না, সেটা তাই অনুমেয়ই ছিল। তবে তাঁর প্রাণপণ চেষ্টা দর্শকদের চোখ এড়ায়নি। শুরুতে পাশাপাশি থাকলেও চিতা সহজে এগিয়ে যায় এবং ওয়াটকিন্সের অনেক আগে ফিনিশিং লাইন পেরিয়ে যায়।
ওয়াটকিন্সের অনুসারীরা তাঁর এই চ্যালেঞ্জ দেওয়ার বা গ্রহণের সাহসের প্রশংসা করেন। এক ইউটিউবেই তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ৪ কোটি ৭৩ লাখের বেশি।