ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের ওপর এই চিকিৎসাপদ্ধতির প্রয়োগ এখনো পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। এটি পরিচালনা করছে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মারসডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ। ক্যানসার রোগীর ওপর চলমান এই পরীক্ষার ফলাফল ফ্রান্সের প্যারিসে একটি মেডিকেল কনফারেন্সে উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রথম ধাপের এই পরীক্ষায় ক্যানসার আক্রান্ত যেসব রোগী অংশ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একজন পশ্চিম লন্ডনের বাসিন্দা কিরজিস্তফ ওজকোয়াসকি (৩৯)। ২০১৭ সালে তাঁর মুখের কাছে লালাগ্রন্থিতে ক্যানসার শনাক্ত হয়। ওই সময় অস্ত্রোপচার ও অন্য অনেক চিকিৎসা নেন তিনি। কিন্তু এসব সত্ত্বেও তাঁর ওই ক্ষত বাড়তে থাকে।

কিরজিস্তফ বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল, আমার জন্য আর কোনো উপায় (ক্যানসার নিরাময়ের) অবশিষ্ট নেই। এর পর থেকে আমি আর বেশি দিন বেঁচে নেই ধরে নিয়ে সেবা নিতে থাকি। তখন আমার জন্য সেই পরিস্থিতি ছিল বিপর্যয়কর। ফলে গবেষণা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য ছিল অবিশ্বাস্য ব্যাপার।’

সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ওই থেরাপির একটি কোর্স নিয়ে কিরজিস্তফের ক্যানসার নিরাময় হতে দেখা গেছে। তাঁকে হারপেস ভাইরাসের একটি রূপান্তরিত সংস্করণের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। কিরজিস্তফ বলেন, ‘পাঁচ সপ্তাহ ধরে দুই সপ্তাহ অন্তর আমি ইনজেকশন নিই। এরপর দুই বছর ধরে আমি ক্যানসারমুক্ত।’

গবেষণার অংশ হিসেবে প্রায় ৪০ জন ক্যানসার রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। কিছু ব্যক্তিকে ভাইরাস ইনজেকশন দেওয়া হয়, যেটার পোশাকি নাম আরপি২। অন্যদের দেওয়া হয় ক্যানসারের ওষুধ নিভোলুম্যাব। আরপি২ দেওয়া নয়জন রোগীর তিনজনের টিউমার ছোট হয়ে গেছে, যার মধ্যে কিরজিস্তফও রয়েছেন। একসঙ্গে দুটি চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগ করা ৩০ জনের মধ্যে ৭ জন ভালো ফল পেয়েছেন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই কম।

থেরাপিতে ব্যবহৃত সাধারণ ভাইরাসটি ইনজেকশনের মাধ্যমে সরাসরি টিউমারে দেওয়া হয়। এরপর সেটি দুইভাবে ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তির কোষগুলোকে আক্রমণ করে। প্রথমত, ক্যানসারের কোষগুলোতে আক্রমণ করে এবং সেগুলো ধ্বংস করে দেয়। দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সক্রিয় করে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন