default-image

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মিসরের সুয়েজ খালে কনটেইনারবাহী জাহাজজটের ছয় দিন পেরিয়ে গেছে। উদ্ধারকাজ চলছে টানা পাঁচ দিন। তারপরও কোনো সুখবর পাওয়া যাচ্ছে না। সুয়েজ খালের দুই প্রবেশমুখেই লেগে আছে জাহাজজট। এই জটে আটকে আছে তিন শতাধিক জাহাজ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌবাণিজ্যপথে কবে নাগাদ নৌ চলাচল শুরু হবে, তা বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল–জাজিরা জানায়, ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার সকালে। সুয়েজ খাল অতিক্রমের সময় প্রবল বাতাস আর ধূলিঝড়ের কবলে পড়ে ‘এভার গিভেন’ নামের কনটেইনারবাহী একটি জাহাজ। পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি তাইওয়ানের এভারগ্রিন মেরিন করপোরেশন লিজ নিয়ে পরিচালনা করে।
এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, হঠাৎ প্রবল বাতাস আর ধূলিঝড়ে জাহাজটির গতিপথ বদলে যায়। এর নিচের অংশ আড়াআড়িভাবে তীরের মাটিতে আটকে যায়। জাহাজটি দৈর্ঘ্যে ৪০০ মিটার, প্রস্থে ৫৯ মিটার। এটি ২০ ফুটের ২০ হাজার কনটেইনার পরিবহনে সক্ষম। ঘটনার সময় এটি পণ্যবাহী কনটেইনারে পূর্ণ ছিল।

বুধবার থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করে সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ (এসসিএ)। উদ্ধারকাজে শুরুতে যুক্ত হয় মিসরের আটটি টাগবোট। কোনোভাবেই আড়াআড়ি হয়ে আটকে থাকা বিশাল জাহাজটির মুখ ফিরিয়ে আবারও জলে ভাসানো সম্ভব হয়নি। গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসসিএর প্রধান ওসামা রাবি জানান, খালে পানির প্রবাহে জোর কম থাকায় বিশাল জাহাজটি জলে ভাসানো যাচ্ছে না।
গতকাল উদ্ধারকাজে যুক্ত রয়েছে ১৪টি টাগবোট। এসসিএ বলছে, জাহাজটি জলে ভাসাতে ড্রেজিং করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মাটি খুঁড়ে জাহাজটির প্রপেলার মুক্ত করা হবে। এতে সময় লাগবে। কবে নাগাদ জাহাজটি পুরোপুরি উদ্ধার করা যাবে, সেটা অনিশ্চিত। ওসামা রাবি বলেন, ‘প্রবল বাতাস আর প্রতিকূল আবহাওয়া এই ঘটনার পেছনে প্রধান কারণ না–ও হতে পারে। এর পেছনে কারিগরি কিংবা মানবসৃষ্ট ত্রুটি থাকতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

বাড়ছে জাহাজজট

বিশ্ববাণিজ্যে সুয়েজ খালের গুরুত্ব অনেক। এটি নৌপথে এশিয়া ও ইউরোপের দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। ফলে সুয়েজ খাল ব্যবহার করে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে তুলনামূলক কম খরচে পণ্য পরিবহন করা যায়। বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্যের ১২ শতাংশ সুয়েজ খাল হয়ে পরিবহন করা হয়।

এসসিএর তথ্যমতে, গত বছর সুয়েজ খাল দিয়ে প্রায় ১৯ হাজার পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। প্রতিদিন গড়ে ৫১টির বেশি জাহাজ এ জলপথ পাড়ি দিয়েছে। গত বছর ১১৭ কোটি টন পণ্য সুয়েজ খাল দিয়ে গন্তব্যে গেছে।
এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বন্ধ রয়েছে টানা ছয় দিন। গত বৃহস্পতিবার এসসিএ জানায়, উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুয়েজ খালে জাহাজ চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হবে।

default-image

ঘটনার পর থেকেই জাহাজজট দেখা দেয় সুয়েজ খালের উভয় প্রবেশমুখে। বৃহস্পতিবার সুয়েজ খালের দুই প্রবেশমুখে প্রায় ১৫০টি পণ্যবাহী জাহাজ পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। আজ রোববার এই সংখ্যা বেড়ে ৩২১টিতে দাঁড়িয়েছে বলে জানান ওসামা রাবি।

জাপানি প্রতিষ্ঠান শোয়েই কিসেন গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আটকে পড়া জাহাজটি থেকে তাদের কনটেইনার নামিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করছে। তবে এটা খুবই জটিল কাজ হবে। জাহাজটি আবারও জলে ভাসাতে যদি অনেক সময় লেগে যায়, সে ক্ষেত্রে এই কৌশল ছাড়া বিকল্প কিছু থাকবে না।

সহায়তার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

সুয়েজ খালে দ্রুত নৌ চলাচল চালু করতে ও উদ্ধারকাজ এগিয়ে নিতে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই ঘটনায় মিসরের পাশে থাকার কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের উপকরণ ও সক্ষমতা রয়েছে। অনেক দেশেরই এমন সক্ষমতা নেই। প্রয়োজনে আমরা সহায়তা করতে পারি।’
মিসর সরকার বাইডেনের এই সহায়তার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। এর পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর পরিকল্পনা শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন
আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন