default-image

মোজাম্বিকের পালমা শহরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গত বুধবার থেকে সংঘর্ষ চলছে। স্থানীয় এক হোটেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টার সময় সেনাবাহিনীর গাড়িতে গুলি চালায় জঙ্গিরা। এ ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার এক নাগরিকের মৃত্যু হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, পালমা শহরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে শতাধিক মানুষ ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এর মধ্যে হোটেলে আটকে পড়েন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে গ্যাসকর্মী হিসেবে কাজ করা বিদেশি কয়েকজন নাগরিকও ছিলেন। তাঁদের উদ্ধার করার চেষ্টার সময়ই জঙ্গিরা আবার হামলা চালায়। তখনই একজনের মৃত্যু হয়। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে ওই এলাকার কাছেই একটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। বর্তমানে তা আছে ফরাসি কোম্পানি ‘টোটাল’-এর নিয়ন্ত্রণে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এরই মধ্যে সংঘর্ষের কারণে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে তারা। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদের কোনো কর্মী মারা যাননি। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে মোজাম্বিকের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আস্থা থাকার কথাও জানিয়েছে টোটাল।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, পালমা শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিচ্ছিন্নভাবে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় মানুষদের অনেকে ভয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। আর যারা এখনো এলাকায় আছে, তারা বিভিন্ন ভবনে আশ্রয় নিয়েছে।

২০১৭ সাল থেকেই মোজাম্বিকের উত্তরাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা চলছে। প্রায়ই ওই অঞ্চলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব সংঘাতে ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর উদ্বাস্তু হয়েছে প্রায় সাত লাখ মানুষ। অভিযোগ আছে, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গিরা এসব সংঘাতের জন্য মূলত দায়ী।

আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন