এদিকে আগামী বছরের জুলাইয়ে দেশটিতে নির্বাচন করতে চায় অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ বুরহান।

সুদানে সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের অনেক দেশ ও সংস্থা। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা স্থগিত করেছে। আবদেল ফাত্তাহ বুরহান সামরিক পদক্ষেপের জন্য রাজনৈতিক অন্তর্দ্বন্দ্বকে দায়ী করেছেন।

দুই বছর আগে দীর্ঘদিনের শাসক ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ক্ষমতা ভাগাভাগি করে দেশ শাসন করছিল সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক সরকার। কিন্তু এর পর থেকে বেসামরিক নেতা এবং তাদের সামরিক প্রতিপক্ষের মধ্যে নানা বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এর মধ্যে অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটল।

বিবিসি জানিয়েছে, রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী খার্তুমসহ ও অন্যান্য শহরে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী রাজপথে নেমে আসেন। বেসামরিক শাসন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

আহত একজন বিক্ষোভকারী সাংবাদিকদের বলেন, সামরিক সদর দপ্তরের বাইরে তাঁর পায়ে গুলি করেন সেনারা। সেনাসদস্যরা প্রথমে স্টান গ্রেনেড এবং তারপর সরাসরি গুলি চালান।

আল-তায়েব মোহাম্মদ আহমেদ নামের একজন বলেন, ‘আমার চোখের সামনে দুজন লোকের মৃত্যু হলো।’ সুদানের চিকিৎসক ইউনিয়ন ও তথ্য মন্ত্রণালয় তাদের ফেসবুক পেজে সামরিক সদর দপ্তরের বাইরে প্রাণঘাতী গুলির কথা জানিয়েছে।

শহরের এক হাসপাতালের ছবিতে রক্তাক্ত পোশাক ও একাধিক আঘাতের চিহ্ন নিয়ে অনেককে দেখা গেছে। বিবিসির এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সহিংসতার পর বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পিছু হটার সামান্য আভাস পাওয়া গেছে।

টায়ার পুড়িয়ে এবং ইটের স্তূপ বানিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। খার্তুম বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে এবং স্থগিত করা হয়েছে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। ইন্টারনেট ও বেশির ভাগ ফোনের সংযোগও বন্ধ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মীরা ধর্মঘটে গেছেন এবং দেশজুড়ে চিকিৎসকেরা জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সেনা হাসপাতালে কাজ করতে অস্বীকার করছেন বলে জানা গেছে।

দেশটির দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দল উম্মা ও সুদানিস কংগ্রেস সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের নিন্দা জানিয়েছে। তারা গ্রেপ্তার হওয়া সবার মুক্তির দাবি জানিয়েছে। সস্ত্রীক গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদক, মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য ও অন্যান্য রাজনীতিক। তবে তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রীসহ গ্রেপ্তার সবার মুক্তির দাবি জানিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব লিগ ও আফ্রিকান ইউনিয়ন। তাদের সবার পক্ষ থেকে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।