default-image

মিসরে খ্রিষ্টপূর্ব ১৬০০ অব্দের ফারাও রাজা দ্বিতীয় সিকেনেনারে টাও কীভাবে খুন হয়েছিলেন, সে রহস্যের নতুন সূত্র পাওয়া গেছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্প্রতি একটি গবেষণা করা হয়েছে। এতেই মিলেছে ওই সূত্র।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসরের প্রত্ন সম্পদবিষয়ক মন্ত্রণালয় গত বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সিকেনেনারে টাও মূলত ‘সাহসী’ রাজা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি মিসরের দক্ষিণাঞ্চলে রাজত্ব করেন।

গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে সিকেনেনারে টাওয়ের মৃত্যুরহস্য উদ্ভাবনের চেষ্টা করছিলেন। তাঁর মমি ১৯ শতকের শেষ দিকে পাওয়া যায়। তাঁর মুখে বিশেষ আঘাতের চিহ্ন ছিল।

বিজ্ঞাপন

সিকেনেনারে তাঁর মিসরীয় সেনা নিয়ে হাইকসের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। হাইকসের পশ্চিম এশীয় একটি রাজবংশ, যা নীল নদের নিম্নাঞ্চল দখল করেছিল।

১৯৬০ সালে সিকেনেনারের শরীর এক্স–রে করা হয়েছিল। এতে তাঁর মস্তিষ্কে আঘাত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। লড়াই বা প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে তিনি নিহত হয়েছিলেন বলে তত্ত্ব পাওয়া যায়।

সম্প্রতি সিকেনেনারে টাওয়ের সিটি স্ক্যান ও থ্রিডি ইমেজ তৈরি করেন গবেষকেরা। প্রত্নতাত্ত্বিক জাহি হাওয়াস এবং কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক সাহার সেলিম সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে যুদ্ধের ময়দানে বন্দী হওয়ার পর তাঁকে ‘মৃত্যুদণ্ড’ দেওয়া হয়েছিল।

সিটি স্ক্যানে তাঁর মস্তিষ্কে আঘাতের বিস্তারিত পাওয়া গেছে। আগের পরীক্ষাতে এত বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মৃত্যুর পর ওই রাজাকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তাঁর শরীরকে সংরক্ষণ করা হয়।

গবেষকেরা কায়রোর জাদুঘরে রাখা বিভিন্ন হাইকসোস অস্ত্রের আঘাতে আহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেন।

গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ‘ফ্রন্টায়ার্স অব মেডিসিন’ সাময়িকীতে।
গবেষকেরা বলেন, ওই ফারাও রাজা যখন মারা যান, তখন তাঁর বয়স ছিল ৪০ বছর। তিনি সম্ভবত যুদ্ধের ময়দানে আটক হয়েছিলেন। তাঁর হাত পিছমোড়া করে বাঁধা হয়েছিল। এরপর কোনো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়।

আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন