সাংবাদিক থেকে যেভাবে রাজা হলেন তিনি

রাজসিংহাসনে সাংবাদিক থেকে রাজা হয়ে ওঠা এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা নিয়াবোঙ্গো। কারুজিকা রাজপ্রাসাদ, ফোর্ট পোর্টাল, উগান্ডা, ২৯ সেপ্টেম্বর
ছবি: রয়টার্স

মাইক্রোফোন হাতে দুই দশকের বেশি সময় ধরে অন্যের গল্প বলেছেন তিনি। কখনো খবর পড়েছেন, কখনো মানুষের কথা বলেছেন, কখনো দেশের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন। ৫৬ বছর বয়সে এসে হঠাৎ সেই সাংবাদিকের নিজের গল্পই হয়ে গেল খবরের শিরোনাম।

এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা এখন আর শুধু সাংবাদিক নন। তাঁর মাথায় উঠেছে রাজমুকুট। উগান্ডার ঐতিহাসিক তোরো রাজ্যের নতুন রাজা তিনি। তাঁর নতুন পরিচয়—রাজা প্রথম এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা নিয়াবোঙ্গো।

কিজানাঙ্গোমার রাজা হয়ে ওঠার গল্পটা যতটা চমকপ্রদ, ততটাই জটিল। এখানে আছে রাজপরিবারের উত্তরাধিকার নিয়ে তীব্র বিরোধ, সিংহাসনের দাবিদার এক অপ্রকাশিত শিশুর গল্প, মায়ের আপত্তি, ২১ সদস্যের রাজকীয় কমিটির সিদ্ধান্ত। আর আছে একজন সাংবাদিকের হাতে রাজদণ্ড চলে আসার অবিশ্বাস্য ঘটনা।

এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা। কারুজিকা রাজপ্রাসাদ, ফোর্ট পোর্টাল, উগান্ডা, ২৯ সেপ্টেম্বর
ছবি: রয়টার্স

তোরো রাজ্যে সবার মুখে মুখে এখন একটা প্রশ্নটা ঘুরছে—এই সিংহাসন কি সত্যিই তাঁরই ছিল? এর উত্তর খুঁজতে হলে ফিরতে হবে গত মাসে। সে সময় ৩৪ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তোরোর রাজা চতুর্থ ওয়ে ন্যিম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিডি।

১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসেছিলেন ওয়ে। তখন তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী রাজা। ৩১ বছর পর তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে খালি হয়ে যায় তোরোর সিংহাসন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন রাজার গল্প এবং পুরোনো রাজপরিবারের নতুন দ্বন্দ্ব।

আনুষ্ঠানিক রাজ্যাভিষেকে রাজা কিজানাঙ্গোমা। কারুজিকা রাজপ্রাসাদ, ফোর্ট পোর্টাল, উগান্ডা, ২৯ সেপ্টেম্বর
ছবি: রয়টার্স

সাংবাদিক থেকে রাজা

উগান্ডার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত চারটি ঐতিহাসিক রাজ্যের একটি হলো তোরো। গত ৩১ বছর এই রাজ্যের রাজা ছিলেন চতুর্থ ওয়ে ন্যিম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিডি।

বাবার মৃত্যুর পর ১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসেছিলেন তিনি। তখন বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী রাজা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। সেই কারণে তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল ‘বালক রাজা’ পরিচয়। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত মাসে ৩৪ বছর বয়সে মারা যান ওয়ে।

ওয়ের মৃত্যুর পরই সামনে আসে উত্তরসূরি বাছাইয়ের প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই শেষ পর্যন্ত রাজপরিবারের নজর পড়ে কিজানাঙ্গোমার দিকে। তবে তিনি যে রাজা হবেন, সেটা আগে থেকেই ঠিক ছিল না।

তোরোর রাজা চতুর্থ ওয়ে ন্যিম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিডি। গত মাসে ক্যানসারে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় কিজানাঙ্গোমা ওই পদে স্থলাভিষিক্ত হন। ছবি: রয়টার্স

সিংহাসনের দৌড়ে ছিলেন ফুটবলারও

রাজা নির্বাচনের দায়িত্ব বাবিতো গোত্রের ২১ সদস্যের একটি কমিটির। কিজানাঙ্গোমার পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে সিংহাসনের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল।

তাঁদের একজন প্রিন্স জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসি। তিনি যুক্তরাজ্যের একটি পরিচিত অপেশাদার ফুটবল ক্লাব সাউথইস্ট ডনসের অধিনায়ক ও গোলরক্ষক।

রাজা হওয়ার প্রস্তাবও পেয়েছিলেন তিনি। তবে অন্য দায়িত্বের কথা বলে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

শেষ পর্যন্ত রাজমুকুট ওঠে সাংবাদিক কিজানাঙ্গোমার মাথায়।

বিভিন্ন আচার পালনের পর কিজানাঙ্গোমাকে প্রায় চার কিলোমিটার হেঁটে সরকারি কারুজিকা রাজপ্রাসাদে পৌঁছাতে হয়। কারুজিকা রাজপ্রাসাদ, ফোর্ট পোর্টাল, উগান্ডা, ২৯ সেপ্টেম্বর। ছবি: রয়টার্স

রাজা হওয়ার আগে হাঁটতে হলো চার কিলোমিটার

তোরো রাজ্যে রাজা হওয়া অবশ্য শুধু মুকুট পরার ব্যাপার নয়। তোরোর রাজপরিবারের ঐতিহ্যে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা আনুষ্ঠানিকতা।

অভিষেকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় মধ্যরাত থেকেই। বিভিন্ন আচার পালনের পর কিজানাঙ্গোমাকে প্রায় চার কিলোমিটার হেঁটে সরকারি কারুজিকা রাজপ্রাসাদে পৌঁছাতে হয়। সেখানেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা ঘোষণা ও অভিষিক্ত করা হয়।

তোরো রাজ্যের তথ্যবিষয়ক মন্ত্রী চার্লস মওয়াঙ্গুহিয়া বিবিসির ‘ফোকাস অন আফ্রিকা’ পডকাস্টকে বলেন, রাজার অভিষেকের পর হবে একটি প্রতীকী লড়াই। এর মধ্য দিয়ে বোঝানো হবে, রাজত্ব সহজে পাওয়া যায় না।

এরপর রাজপরিবারের বাবিতো গোত্রের সদস্যরা নতুন রাজাকে আশীর্বাদ করবেন বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি। কারুজিকা রাজপ্রাসাদ, ফোর্ট পোর্টাল, উগান্ডা, ২৯ সেপ্টেম্বর। ছবি: রয়টার্স

রাজা হলেন যেভাবে

তোরোর প্রথা অনুযায়ী, প্রয়াত রাজার স্বীকৃত ছেলে থাকলে তাঁরই পরবর্তী রাজা হিসেবে সিংহাসনে বসার কথা।

রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের দাবি, প্রয়াত রাজা ওয়ে একটি শিশুপুত্র রেখে গেছেন। এমনকি একটি ইচ্ছাপত্রেও (উইল) নাকি ওই শিশুকে পরবর্তী রাজা করার নির্দেশ ছিল।

কিন্তু ওই শিশুকে কখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি। প্রয়াত রাজা ওয়ে কখনো প্রকাশ্যে বিয়ে করেননি। তাঁর স্ত্রী বা ছেলেকে নিয়েও খুব বেশি তথ্য জনসমক্ষে নেই। এ কারণে ২১ সদস্যের বাবিতো গোত্রের যে কমিটি রাজা নির্বাচন করে, তারাও ওই শিশুকে স্বীকৃতি দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ওই কমিটিই কিজানাঙ্গোমাকে রাজা হিসেবে বেছে নেয়।

আর এতেই আপত্তি তোলেন প্রয়াত রাজা ওয়ের মা রানি বেস্ট কেমিগিসা আকিকি।

তোরো রাজ্যের বাতুরো জনগণের ১৩তম রাজার অভিষেক অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন করছেন স্থানীয়রা। কারুজিকা রাজপ্রাসাদ, ফোর্ট পোর্টাল, উগান্ডা, ২৯ সেপ্টেম্বর
ছবি: রয়টার্স

‘দ্বিতীয় রাজা’ ঘোষণা?

কেমিগিসার বক্তব্য, তাঁর ছেলের উইল রাজপরিবারের সদস্যদের পড়ে শোনানো হয়েছিল। ওই উইলকে সম্মান জানানো উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে কিজানাঙ্গোমাকে রাজা ঘোষণা করা হয়েছে।

কেমিগিসা কিজানাঙ্গোমাকে রাজা হিসেবে বেছে নেওয়ার ঘটনাকে ‘দ্বিতীয় একজন রাজাকে ঘোষণা’ বলে অভিহিত করেছেন।

কেমিগিসা বলেন, ‘একজন মা হিসেবে বিষয়টি ছিল নিদারুণ কষ্টের।’ তাঁর ভাষায়, ‘পরবর্তী রাজার অভিষেকের উদ্‌যাপন হচ্ছিল যেখানে আমার ছেলের মরদেহ রাখা ছিল, সেখান থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে।’

তবে রাজপরিবারের উত্তরাধিকার কমিটি তাঁর সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তোরোর রীতিনীতি ও ঐতিহ্য মেনেই তাদের নির্বাচনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

পরে রানি বলেন, ওয়ের ছেলে তখন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ছিল। দেশে ফেরার কথা থাকলেও উত্তরাধিকার বিরোধের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে তা আর হয়ে ওঠেনি।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কেমিগিসা বলেন, ‘কোনো শিশুকে এমন পরিস্থিতিতে রাখা উচিত নয়, যেখানে বাবার মাতৃভূমিতে ফিরে আসার অর্থ হতে পারে শত্রুতা ও সংঘাতের মধ্যে জড়িয়ে পড়া।’

তবে তোরো রাজ্যের তথ্যবিষয়ক মন্ত্রী মওয়াঙ্গুহিয়ার বক্তব্য আলাদা। তিনি বলেছেন, ওই শিশুকে ‘কোথাও উপস্থাপন করা হয়নি’। তাই দুঃখজনক হলেও ধীরে ধীরে এমন একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হচ্ছে যে রাজা ওয়ে কোনো ছেলে রেখে যাননি।

এ কারণে নতুন রাজা নিজেই এখন উত্তরাধিকার বিরোধের কেন্দ্রে চলে এসেছেন। রানি কেমিগিসা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ স্বজনেরা এই ফলাফলে অসন্তুষ্ট।

দুই রাজা, এক বংশ

মওয়াঙ্গুহিয়া বিবিসিকে আরও বলেন, রাজা ওয়ে তাঁর বাবার কাছ থেকে সিংহাসন পেয়েছিলেন। এবার ‘সিংহাসনটি শাসক গোত্রের অন্য একটি বংশধারায় চলে গেছে’।

রাজপ্রাসাদ সূত্র বলছে, তোরোর রাজা অবশ্যই বাবিতো গোত্র থেকে আসবেন। বিশেষ করে রাজা জর্জ ডেভিড ম্যাথিউ কামুরাসি রুকিডি তৃতীয়ের বংশধারা থেকে।

কিজানাঙ্গোমা ও প্রয়াত রাজা ওয়ে আসলে চাচাতো ভাই। দুজনই রুকিডি তৃতীয়ের নাতি। রুকিডি তৃতীয় ছিলেন তোরোর ১১তম রাজা বা ওমুকামা। তিনি ১৯২৮ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেছেন।

সেই হিসাবে কিজানাঙ্গোমা রাজবংশেরই মানুষ। অর্থাৎ সাংবাদিকের রাজা হয়ে ওঠার গল্পটি হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়। তাঁর নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে রাজপরিবারের পুরোনো ইতিহাস।

অভিষেকের আগে ঐতিহ্যবাহী আচার পালন করছেন কিজানাঙ্গোমা। কারুজিকা রাজপ্রাসাদ, ফোর্ট পোর্টাল, উগান্ডা, ২৮ সেপ্টেম্বর
ছবি: রয়টার্স

নামের মধ্যেই রাজকীয় ইঙ্গিত

যে বছর রুকিডি তৃতীয় রাজা হয়েছিলেন, ওই বছর কিজানাঙ্গোমার বাবা প্রথম কিজানাঙ্গোমার জন্ম। রাজা রুকিডিই তাঁর নাম রেখেছিলেন কিজানাঙ্গোমা।

এই নামের অর্থ—‘যিনি রাজকীয় ঢাক নিয়ে আসেন’।

দুই প্রজন্ম আগে নামের ভেতর দিয়ে যার ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, সেই রাজকীয় ঢাক এখন তার বাহকের কাছেই ফিরে এসেছে।

মাইক্রোফোন থেকে রাজদণ্ড

কিজানাঙ্গোমার জন্ম ১৯৭০ সালে। ফোর্ট পোর্টাল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের কিদুকুরু গ্রামে তাঁর বেড়ে ওঠা।

পরে পড়াশোনার জন্য গ্রাম ছাড়েন। ১৯৯৯ সালে উগান্ডার মেকেরেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেন। এরপর শুরু হয় তাঁর সাংবাদিকতার জীবন।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে সম্প্রচারমাধ্যমে কাজ করেছেন কিজানাঙ্গোমা। প্রতিবেশী রুয়ান্ডাতেও কাজ করেছেন। নিজ দেশে ছিলেন উগান্ডা ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (ইউবিসি) পরিচিত মুখ।

সাংবাদিকতার এই দীর্ঘ সময় কিজানাঙ্গোমাকে মানুষের খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছে। কথা বলেছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে, যোগাযোগ হয়েছে বিভিন্ন নেতার সঙ্গে, কাজ করেছেন জাতীয় নানা ঘটনা নিয়ে। এখন সেই অভিজ্ঞতাই রাজা হিসেবে কাজে লাগাতে চান তিনি।

কিজানাঙ্গোমা বলেছেন, সাংবাদিক হিসেবে ২১ বছরে গড়ে তোলা যোগাযোগ ও সম্পর্ক তিনি ‘মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে’ কাজে লাগাবেন।

অভিষেকের আগে ঐতিহ্যবাহী আচার পালন করছেন কিজানাঙ্গোমা। কারুজিকা রাজপ্রাসাদ, ফোর্ট পোর্টাল, উগান্ডা, ২৮ সেপ্টেম্বর
ছবি: রয়টার্স

রাজসিংহাসন আছে, ক্ষমতা নেই

উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী রাজাদের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কোনো ক্ষমতা নেই। তবে তাঁদের সাংস্কৃতিক প্রভাব রয়েছে এবং নিজেদের সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তাঁরা উল্লেখযোগ্য আনুগত্য ভোগ করেন।

উগান্ডায় চারটি প্রধান রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় বুগান্ডা। মধ্যাঞ্চলের এই রাজ্যের আওতাতেই রাজধানী কাম্পালা।

১৯৬৭ সালে এসব রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির সরকার সেগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

সরকারের ভাষ্য ছিল, এর উদ্দেশ্য সাংস্কৃতিক গর্ব ও জাতীয় ঐক্যকে উৎসাহিত করা। তবে এই সিদ্ধান্তকে সম্প্রদায়গুলোর সমর্থন ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক আনুগত্য বাড়ানোর একটি উপায় হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

‘আমি একা কাজ করতে পারব না’

উগান্ডা সরকার কিজানাঙ্গোমার অভিষেকের পক্ষে ছিল। অ্যাটর্নি জেনারেল স্যাম মায়াঞ্জা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ না থাকায় অভিষেক এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি। তাঁর ছেলে ও দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবাও কিজানাঙ্গোমাকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন। এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘দীর্ঘ হোক তাঁর রাজত্ব।’

রাজা হওয়ার পর কিজানাঙ্গোমা অবশ্য রাজকীয় দূরত্ব তৈরি করতে চাননি। বরং রাজপ্রাসাদ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা বলেছেন। তাঁর লক্ষ্য—ঐক্য ও উন্নয়ন।

কিজানাঙ্গোমার কথায়, ‘তাঁরা আমাকে রাজা হিসেবে এই উপাধি দিয়েছেন। কিন্তু আমি একা কাজ করতে পারব না। আমাকে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।’

প্রয়াত রাজা ওয়ের মা রানি বেস্ট কেমিগিসা আকিকি
ছবি: রয়টার্স

মায়ের চোখে রাজা

ছেলের নতুন পরিচয় নিয়ে রাজা কিজানাঙ্গোমার মা আসিমওয়ে ইউস্তা কিজানাঙ্গোমার আত্মবিশ্বাস আছে। মায়ের চোখে তাঁর ছেলে শান্ত স্বভাবের।

মা আসিমওয়ের মতে, কিজানাঙ্গোমার রাজা হওয়ার প্রস্তুতি আসলে অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। সে সেই ঐতিহ্যের ভেতরেই বড় হয়েছে।

রাজার মা বিবিসিকে বলেন, ‘আমি তাঁকে পুরোনো রাজ্যের শিক্ষা, বেত্রাঘাত, নির্দেশনা ও বকাঝকার মধ্য দিয়ে বড় করেছি। আমি তাঁর সঙ্গে হাসিঠাট্টা করি, আবার অন্য সময় তাঁকে বকাও দিই।’

মা বলেন, ‘এডি (কিজানাঙ্গোমা) ভালো আচরণ করে। সে ঝগড়া করে না, চিৎকারও করে না। কেউ তার প্রতি অন্যায় করলেও সে অল্প কিছু কথা বলে এবং বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করে না।’

ছেলে রাজা হয়েছেন—আনন্দ তো আছেই। তবে সেই আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে বিষণ্নতাও। কারণ, তাঁর ছেলে যে সিংহাসনে বসেছেন, সেটি খালি হয়েছে একজন ‘মহান মানুষ’-এর মৃত্যুর পর।