সুদানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ড্রোন হামলার অভিযোগ, নিহত ৩০০
আফ্রিকার দেশ সুদানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কয়েকটি ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব হামলায় ৩০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
হামলার একটি ঘটনা ঘটে গত রোববার সন্ধ্যায়। সুদানের ওয়েস্ট করদোফান রাজ্যের দুটি এলাকায় ড্রোন হামলায় ১৫০ জন নিহত হন। সুদানের চলমান সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সুদান ওয়ার অবজারভেটরি’কে এ তথ্য জানিয়েছে কয়েকটি সূত্র।
সুদানে একের পর এক প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় আমরা উগ্বিগ্ন। এসব হামলায় শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছে। জরুরি পরিষেবাগুলো ব্যাহত হচ্ছে।স্টিফেন ডুজারিক, জাতিসংঘের মুখপাত্র
২০২৩ সালে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ওই অঞ্চলে সংঘাত শুরু হয়।
হামলার আরেকটি ঘটনা ঘটেছে গত সোমবার। সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যবর্তী বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকা আবেইতে ড্রোন হামলায় ১৫৩ জন নিহত হন। একটি বাজারে এ হামলা চালানো হয়।
সুদানের ওপর আংশিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও কয়েকটি দেশ সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ—উভয় পক্ষকে ড্রোন সরবরাহ করছে। চলমান সংঘাতে ড্রোন ক্রমেই পছন্দের অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে।
সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র বিবিসিকে জানায়, আবেই এলাকার বাজারে হামলাটিও সুদানের সেনাবাহিনী চালিয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, বাজারটি আরএসএফের জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
ড্রোন হামলার পর সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। দেশ দুটি যৌথভাবে আবেই অঞ্চল পরিচালনা করে। তেলসমৃদ্ধ এ অঞ্চলের মালিকানা নিয়েও দেশ দুটির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীনতা অর্জন করে। এর পরও আবেই নিয়ে দেশ দুটির বিরোধের সমাধান হয়নি। দক্ষিণ সুদান ওই ড্রোন হামলার প্রতিবাদ জানাতে সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত দুই দেশের সীমান্ত পেরিয়ে বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সুদানের ওপর আংশিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও কয়েকটি দেশ সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ—উভয় পক্ষকে ড্রোন সরবরাহ করছে। চলমান সংঘাতে ড্রোন ক্রমেই পছন্দের অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে।
আফ্রিকার অন্যতম দরিদ্র দেশ দুটির টানা সংঘাতে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি দেখা দিয়েছে। এ সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে এক কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সোমবার সুদান প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘দেশটিতে একের পর এক প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় আমরা উগ্বিগ্ন। এসব হামলায় শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছে। জরুরি পরিষেবাগুলো ব্যাহত হচ্ছে।’