সোমালিল্যান্ডে ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল: সোমালিয়া
ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল’ সোমালিল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মোয়ালিম ফিকি এ অভিযোগ করেছেন। কথিত এই পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
গতকাল শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিকি বলেন, ‘আমাদের কাছে নিশ্চিত তথ্য আছে যে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের সোমালিল্যান্ডে স্থানান্তরের একটি নীলনকশা তৈরি করেছে।’ তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সোমালিল্যান্ডের প্রতি দেওয়া কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান।
গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয় ইসরায়েল। সোমালিয়া এই পদক্ষেপকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘সরাসরি আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহম্মাদ দাবি করেছেন, স্বীকৃতির বিনিময়ে সোমালিল্যান্ড ইসরায়েলের তিনটি শর্ত মেনে নিয়েছে। এগুলো হলো—ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসন, এডেন উপসাগরীয় উপকূলে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দেওয়া।
অবশ্য সোমালিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তবে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সম্ভাবনা তারা সরাসরি নাকচ করে দেয়নি।
সোমালিল্যান্ডের ক্ষমতাসীন ‘ওয়াদানি’ পার্টির চেয়ারম্যান হারসি আলী হাজি হাসান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কয়েক দশক ধরে অবহেলিত হওয়ার পর এখন আমাদের অস্তিত্বের জন্য যে দেশই স্বীকৃতি দেবে, আমরা তাদের স্বাগত জানাতে বাধ্য।’