‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি: অভিশংসন তদন্ত ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জরুরি ভিত্তিতে আদালতে একটি আবেদন করেছেন। তাঁর এই আবেদনের উদ্দেশ্য হলো, বহুল আলোচিত ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি–সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে পার্লামেন্টের অভিশংসনপ্রক্রিয়া শুরু হওয়া ঠেকানো। আদালতের নথি থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
রামাফোসা চান, কেলেঙ্কারি–সংক্রান্ত অসদাচরণের বিষয়ে একটি স্বাধীন প্যানেলের দেওয়া পর্যবেক্ষণ বাতিলের জন্য তিনি যে পৃথক আবেদন করেছেন, সে বিষয়ে উচ্চ আদালত আগে সিদ্ধান্ত দিক।
‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ২০২০ সালে। তখন প্রেসিডেন্ট রামাফোসার মালিকানাধীন খামারবাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরি হয়। খামারবাড়ির একটি সোফার ভেতরে এই অর্থ লুকানো ছিল।
প্রেসিডেন্ট রামাফোসার দাবি, চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। আর তা ছিল মহিষ বিক্রির অর্থ।
তবে এত বড় অঙ্কের অর্থ আসবাবপত্রের ভেতরে কেন রাখা হয়েছিল, তা যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্ন ওঠে।
এ ব্যাপারে রামাফোসা বরাবরই কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালত রামাফোসার বিরুদ্ধে অভিশংসন কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করেন। আদালত রায় দেন যে, ২০২২ সালে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোট ছিল অবৈধ।
স্বাধীন প্যানেলের অসদাচরণ–সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধে রামাফোসার করা আবেদনের শুনানি ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে হওয়ার কথা।
৭৩ বছর বয়সী রামাফোসা ২০১৮ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার কথা।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই ও তাঁর দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন রামাফোসা। কিন্তু ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি তাঁর জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, অভিশংসনপ্রক্রিয়া পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে গড়ালেও রামাফোসা শেষ পর্যন্ত টিকে যাবেন।