মিসরে গত রোববার কপটিক মতাবলম্বী খ্রিষ্টানদের গির্জায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪১ জনের মধ্যে কমপক্ষে ১৫ জন ছিল শিশু। তাদের মধ্যে ছিল একসঙ্গে জন্ম নেওয়া তিন ভাইবোন (ত্রিমজ)। ফুটফুটে এই তিন ভাইবোনের বয়স ছিল পাঁচ বছর। ছিল আরও যমজ ভাইবোন। তাদের বয়সও ছিল পাঁচ বছর। খবর বিবিসির।
আবু শিফিন নামে ওই গির্জা কায়রোর উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের ইমবাবা জেলায়। গির্জায় সে সময় সকালের প্রার্থনা চলছিল। অনেক শিশুকে তাদের অভিভাবকেরা নিয়ে এসেছিলেন।
চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় অনেক শিশু ক্লাস করছিল। তাদের বেশির ভাগই নার্সারিতে পড়ত। তদন্তকারী ব্যক্তিরা মনে করছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ড হতে পারে।
মিসরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, বেশির ভাগেরই ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। অনেকে পালানোর সময় পদদলিত হয়ে মারা গেছে। আত্মীয়স্বজন, গির্জার কর্মকর্তা, স্থানীয় হাসপাতাল ও মিসরের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে হামলায় যেসব শিশু নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচ বছরের ত্রিমজ রয়েছে।
তারা হলো মোহরায়েল, ইউসেফ, ফিলোপেটর বাসেম আমির। ওই তিন ভাইবোনের সঙ্গে মারা গেছে তাদের মা ইরিনা আতেফ রামজি (৩৪), দাদি মাগদা হাবিব নাবিহ (৬১) এবং খালা মিরনা আতেফ রামজি (২৫)। সবাই একসঙ্গে সেদিন গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নিয়েছিল। এ ঘটনায় তাদের স্বজন সংগীতশিল্পী মিরেতায়া এমাদ ফেসবুকে শোক জানিয়েছেন।
শুধু মিরেতায়ার পরিবার নয়, অনেকেই এই ভয়াবহ ঘটনায় এমন অনেককে হারিয়েছেন। ইমবাবা জেনারেল হাসপাতালের তালিকা অনুসারে, পাঁচ বছরের যমজ শিশু মরিয়ম ও বারসিনা তামির ওয়াজিহ এবং তাদের তিন বছরের ভাই ইব্রাহিম রয়েছে দুর্ঘটনায় নিহত মানুষের তালিকায়।
রোববার রাতে শেষকৃত্যানুষ্ঠানের ছবিতে দেখা গেছে তিন ভাইবোনের মরদেহের পাশে বসে আছেন তাদের মা। তিন আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছেন তাঁর সন্তানকে। হাসপাতালে নিহতের তালিকায় আরও আছে ১০ বছরের কারোলোস আরিয়ান, ১৩ বছরের মিনা আজমি ও ১৬ বছরের মিনা ফখিরের নাম। দ্য কপটস ইউনাইটেড সংবাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে কারোলোসের মাও মারা গেছেন। তবে তার ভাই রামি বেঁচে গেছে।
রামি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে অগ্নিকাণ্ডের বর্ণনা দিচ্ছিলেন সাংবাদিকদের। তিনি বলেন, তাঁরা তিনজন একসঙ্গে গির্জায় গিয়েছিলেন। আগুন লাগার পর ধোঁয়ার কারণে তাঁরা আলাদা হয়ে পড়েন।
চার্চের বিশপ ৫০ বছরের আবদুল মাসিহ বাখিতও অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে তাঁর স্ত্রীকে পোড়া কাপড় হাতে নিয়ে শোকাহত অবস্থায় দেখা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে কপটিক চার্চের অনুসারী সবচেয়ে বেশি। মিসরের ১০ কোটি ৩০ লাখ মানুষের অন্তত ১ কোটি এই মতাবলম্বী। সাম্প্রতিক বছরে মিসরে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালের মার্চে কায়রোর উত্তরে এক শহরতলির একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর আগে ২০২০ সালে দুটি হাসপাতালে আগুন লেগে ১৪ জন করোনা রোগী প্রাণ হারান।