আফ্রিকায় সাড়ে ৯ হাজার বছর আগে দাহ করা নারীর খোঁজ
আফ্রিকার দেশ মালাউইতে খোঁজ পাওয়া গেছে উপমহাদেশটির সবচেয়ে প্রাচীন চিতা বা দাহ করার স্থানের। এটি বড় একটি আবিষ্কার। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এত দিন পরও চিতাটিতে দাহ করা এক নারীর শরীরের অংশ পাওয়া গেছে। তিনি জীবিত ছিলেন সাড়ে ৯ হাজার বছর আগে।
মালাউইতে যে স্থানে চিতাটি পাওয়া গেছে, সেটি হোরা পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত। পঞ্চাশের দশক থেকেই স্থানটি বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছিল। সেখানে সবশেষ নতুন করে গবেষণা শুরু করা হয় ২০১৬ সালে। জানা গেছে, ২১ হাজার বছর আগে হোরা পর্বতের পাদদেশের ওই স্থানে মানুষের বসবাস শুরু হয়েছিল।
অতি সম্প্রতি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, চিতায় ওই নারীর হাত ও পায়ের কিছু অংশের হাড় পাওয়া গেছে। তাঁর বয়স ছিল ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। উচ্চতায় ছিলেন ৫ ফুটের সামান্য কম। ওই চিতায় একমাত্র তাঁকেই দাহ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
ওই নারী যে প্রাচীন গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন, তারা শিকার করেই জীবন চালাত। গবেষণা দলের প্রধান ও ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমার সহযোগী অধ্যাপক জেসিকা সেরেজো রোমান বলেন, প্রাচীন শিকারি গোষ্ঠীর মধ্যে মৃতদের দাহ করার প্রথা খুবই বিরল ছিল। কারণ, মরদেহ ভস্মে পরিণত করার জন্য প্রচুর শ্রম, সময় ও জ্বালানির প্রয়োজন।
একটি চিতায় একজনকে দাহ করা, তারপর আবার হাড়ের ওপর পাওয়া কিছু কাটা দাগ কয়েকটি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যেমন ওই নারীকে কি পুড়িয়ে ভক্ষণ করা হয়েছিল? তবে বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন নৃবিজ্ঞানী জেসিকা থম্পসন। তিনি বলেন, পাশেই সে সময়কার কিছু পশুর হাড় পাওয়া গেছে। সেগুলো ভক্ষণ করা হয়েছিল। ওই হাড়ের ওপর থাকা কাটা দাগ নারীর হাড়ের চেয়ে ভিন্ন।
আরেকটি অবাক করা বিষয় হলো, দাহ করার স্থানে কোনো দাঁত বা খুলির অংশ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ দাহ করার আগে ওই নারীর মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। অধ্যাপক জেসিকা সেরেজো রোমান বলেন, মালাউইয়ের প্রাচীন শিকারিদের মধ্যে মৃত্যুর পর শরীরের কোনো অংশ সরিয়ে ফেলা আচার ছিল। সেগুলো হয়তো স্মারক হিসেবে রেখে দেওয়া হতো।