নাইজেরিয়ার গ্রামে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩০, লুটপাট–অপহরণ

নাইজেরিয়ার ম্যাপছবি: গুগল ম্যাপস থেকে নেওয়া

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় নাইজার রাজ্যের একটি গ্রামে বন্দুকধারীর অতর্কিত হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত শনিবার বিকেলের এই হামলায় বেশকিছু মানুষকে অপহরণ করার পাশাপাশি দোকানপাটে আগুন ও লুটতরাজ চালিয়েছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা।

গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে নাইজার রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শনিবার বিকেলে ডেমো গ্রামের কাসুওয়ান দাজি বাজারে মোটরসাইকেলে করে এসে নির্বিচারে গুলি ছুড়তে শুরু করে বন্দুকধারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলায় আহত দাউদা শাকুল্লে বলেন, ‘হামলাকারীরা কাউকে রেহাই দেয়নি। নারী ও শিশুদের ওপরও গুলি চালিয়েছে। তখন আশপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর কেউই ছিল না। আমরা এখন নিজেরাই এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করছি।’
পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা কাবে জেলাসংলগ্ন ন্যাশনাল পার্কের গভীর জঙ্গল থেকে এসেছিল। ওই অঞ্চলের বন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দলগুলোর আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। গত নভেম্বরেও এই রাজ্যের একটি ক্যাথলিক স্কুল থেকে শিক্ষার্থী আর শিক্ষক মিলে ৩০০ জনকে অপহরণ করা হয়েছিল।

আফ্রিকার জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় একের পর এক সহিংস ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ‘খ্রিষ্টন নিধন’ চলছে—এমন দাবি তুলে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের রাতে উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় আইএস সদস্যদের ওপর বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

হামলার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে আমার নির্দেশে নাইজেরিয়ায় আইএস সন্ত্রাসীদের ওপর শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। তবে নাইজেরিয়ার সরকার দাবি করেছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় কেবল খ্রিষ্টান নয়, বিপুলসংখ্যক মুসলিমও প্রাণ হারাচ্ছেন।’

দীর্ঘদিন ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাত ও অপহরণের ঘটনায় নাইজেরিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয় এখনো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি।