আবারও জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হলেন হাকাইন্ডে হিচিলেমা

জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হাকাইন্ডে হিচিলেমা রাজধানী লুসাকার কাবুলঙ্গা বয়েজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে ভোট দেন। ১৩ আগস্ট ২০২৬ছবি: এএফপি

আবারও জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন হাকাইন্ডে হিচিলেমা। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির নির্বাচন কমিশন ভোটের ফল ঘোষণা করেছে। নির্বাচনে হাকাইন্ডে হিচিলেমা ৬০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।

তামা উৎপাদনে সমৃদ্ধ জাম্বিয়ায় গত বৃহস্পতিবার মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলো ভয়ভীতি দেখানো, গ্রেপ্তার, সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল।

২০২১ সাল থেকে জাম্বিয়ার ক্ষমতায় আছেন হিচিলেমা। এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১৩ জন। এর মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক প্রাদেশিক মন্ত্রী ব্রায়ান মুন্দুবিলে। এবারই প্রথম তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচন কমিশনের চেয়ারপারসন মওয়াঙ্গালা জালৌমিস বলেন, মুন্দুবিলে প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ২২৬টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে পাঁচটির ফলাফল তখনো গণনা করা হয়নি। তবে বাকি ফলাফল সামগ্রিক ফলে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারপারসন।

বিজয় ঘোষণার পর ৬৪ বছর বয়সী হিচিলেমা বলেন, ‘আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখায় আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।’ যেসব ভোটার অন্য প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন, তাঁদের জন্যও কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন হিচিলেমা।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর হিচিলেমার দল ইউনাইটেড পার্টি ফর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউপিএনডি) লাল পোশাক পরা শত শত সমর্থক রাজধানী লুসাকার রাস্তায় নেমে বিজয় উদ্‌যাপন করেন। তাঁরা গান গেয়ে ও নেচে আনন্দ করেন এবং আতশবাজি ফোটান।

সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা

নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে থেকেই ভোট গণনা নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন মুন্দুবিলে। গত সোমবার তিনি দাবি করেন, ভোট গণনার সময় অনিয়ম হয়েছে। কোনো প্রমাণ না দিয়ে তিনি বলেন, ভোটের ফল লেখা কিছু নথিতে কারসাজি করা হয়েছে। এতে ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মুন্দুবিলে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশের কর্মকর্তাদের ভোটের সংখ্যা পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

জাম্বিয়া সরকারের অভিযোগ, মুন্দুবিলের দল এনআরপিইউপির সদস্যরা সশস্ত্র গোষ্ঠী বা বিদ্রোহী তৎপরতার সঙ্গে জড়িত। তবে দলটি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত রোববার রাতে দেশটির সরকার জানিয়েছিল, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বিরোধী দলের নেতা–কর্মী। সরকারের দাবি, গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের কাছে উন্নত মানের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সশস্ত্র বিদ্রোহে ব্যবহারের অন্যান্য সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।

মুন্দুবিলের বাড়িতে ওই অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে এনআরপিইউপি। দলটির দাবি, অভিযানের সময় গুলি ছোড়া হয় এবং একজন সংসদ সদস্য গুলিবিদ্ধ হন।

সরকারের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা আখ্যা দিয়ে দলটি বলেছে, তাদের কোনো নেতা বা সদস্য বিদ্রোহ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়।

ভোট গণনা স্থগিত

গত শুক্রবার ভোট কেন্দ্রের কর্মীদের ওপর হামলা এবং ব্যালট পেপার চুরির অভিযোগের পর প্রায় ছয় ঘণ্টা ভোট গণনা স্থগিত রাখা হয়েছিল। এ কারণে নির্বাচন কমিশন কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে। পরে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ নিয়ন্ত্রণে এসেছে জানিয়ে ভোট গণনা আবার শুরু করে কমিশন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলগুলো বলেছে, ভোট গণনা স্থগিত রাখার ঘটনায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভোটারদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

হিচিলেমার প্রথম পাঁচ বছরের শাসনামলের মূল্যায়ন হিসেবে এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছিল। এ সময়ে দেশটির অর্থনীতি আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে।

ঋণ পুনর্গঠন ও মূল্যস্ফীতি কমে আসাকে নিজের সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন হিচিলেমা। তবে সমালোচকদের বক্তব্য, অর্থনীতির এই অগ্রগতির সুফল এখনো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তেমনভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জাম্বিয়ার ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের ৭০ শতাংশের বেশি দৈনিক ৩ ডলারের কম আয় দিয়ে জীবন যাপন করে।

আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম তামা উৎপাদনকারী দেশ জাম্বিয়ায় ভোটের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৯১ সালে বহুদলীয় রাজনীতিতে ফেরার পর থেকে দেশটিতে যতবার প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হয়েছে, প্রতিবারই তা নির্বাচনের মাধ্যমে হয়েছে।