কেনিয়ায় অন্য রকম বিড়ম্বনায় দুধ–চা প্রেমীরা

ফাইল ছবি

এক কাপ দুধ–চা ছাড়া সকালটা শুরু হয় না কেনিয়ার অধিকাংশ বাসিন্দার। অনেকের তো দিনে কয়েকবার গরম চায়ের পেয়ালায় চুমুক দেওয়া চাই–ই চাই। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে যেকোনো অনুষ্ঠান—চা ছাড়া যেন পূর্ণতা পায় না। তবে এই দুধ–চা নিয়ে এবার অন্য রকম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের। কারণ, চা মিললেও সহজে মিলছে না দুধ।

এ সংকটের কথা বলছিলেন মুথোনি মাচারিয়া। রাজধানী নাইরোবিতে একটি রেস্তোরাঁ চালান তিনি। প্রতিদিন ৭০ প্যাকেটের বেশি দুধ লাগে তাঁর।

এখন সেই চাহিদা আর পূরণ হচ্ছে না। মাচারিয়া বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দুধের সংকট চলছে। এতে তাঁর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্রেতারাও খুশি নন। কেউ কেউ দুধ ছাড়া চা খাচ্ছেন, কিন্তু অনেকেই খুশি নন।

আফ্রিকা মহাদেশে দুধ উৎপাদনের দিক দিয়ে কেনিয়ার অবস্থান শীর্ষের দিকে। তাহলে কেন দুধের সংকট? এ জন্য দেশটির সরকার খরাকে দায়ী করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কেনিয়ায় চারণভূমি কমে গেছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে গোখাদ্যের দামও ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। ফলে যথেষ্ট খাবার পাচ্ছে না গরু, কমেছে দুধের উৎপাদন।

তবে সরকার খরাকে দুষলেও দুধের সংকটের জন্য সরকারকেই দুষছে কেনিয়ার ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কোফেক। তাদের কথা হলো এই সংকট কিছুটা হলেও এড়ানো সম্ভব ছিল। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি যথেষ্ট পরিমাণ দুধ সংরক্ষণ করে রাখত, তাহলে আজ এই পরিস্থিতি হয়তো দেখা লাগত না।

এখন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য খামারিদের গোখাদ্য ও ভর্তুকি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কোফেক। পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জনাথন মুয়েকেও একই কথা বলেছেন। সংরক্ষণে সহায়তা করার জন্য সরকার একটি তহবিল গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে সাময়িক সময়ের জন্য দুধ আমদানির কথাও বিবেচনা করছে সরকার।