খরচের হিসাবটা শুরু ২০০১ সাল থেকে। সে বছরেই ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার জেরে আফগানিস্তানে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা। এরপর থেকেই আফগানিস্তানে খরচা করে গেছে মার্কিন সরকার। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে খরচের অঙ্কটা এতই বিশাল যে মাথাপিছু হিসাবে প্রত্যেক আফগান নাগরিকের পেছনে ব্যয় হয়েছে ৫০ হাজার ডলার। আফগানিস্তানে প্রায় চার কোটি মানুষ বসবাস করে। একই হিসাবে আফগানিস্তানে মার্কিনদের প্রতিদিন খরচ হয়েছে ৩০ কোটি ডলারের বেশি।

আফগানিস্তানে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ২ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে জানায় ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব। এর মধ্যে শুধু যুদ্ধের পেছনে ব্যয় হয়েছে ৮০০ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি আফগান সেনাদের প্রশিক্ষণ দিতে খরচ হয়েছে ৮৫ বিলিয়ন ডলার। প্রশিক্ষশের পাশাপাশি মার্কিনদের করের অর্থে দেওয়া হয়েছে তাঁদের বেতনও। প্রতিবছর আফগান সেনাদের বেতন দিতে খরচা হয়েছে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার।

তবে দুই দশকের সংঘাতে খরচের এই হিসাব প্রাণহানির কাছে একেবারেই তুচ্ছ। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আফগান যুদ্ধে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনার। দেশটিতে একই সময় নিহত হয়েছেন প্রায় চার হাজার মার্কিন নাগরিক। আফগান নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা চার অঙ্ক ছাড়িয়েছে। ২০০১ সাল থেকে চলা যুদ্ধে ৬৯ হাজার আফগান সেনাসদস্য এবং ৪৭ হাজার বেসামরিক আফগানের মৃত্যু হয়েছে। অপর দিকে নানা সংঘাতে বিপক্ষের ৫১ হাজার সদস্য নিহত হয়েছেন।
এ গেল শুধু নিহতের হিসাব। আফগান যুদ্ধের ফসল আরও ২০ হাজার আহত মার্কিন সেনা। তাঁদের সাহায্য-সহায়তা করতে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৩০০ বিলিয়ন ডলার। এ সহায়তা অব্যাহত রাখতে হলে আগামী দিনগুলোতে আরও আধা ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।

এদিকে মার্কিন সরকার আফগানিস্তান যুদ্ধের শেষ ঘোষণা করলেও এর খরচের বোঝাটা বহুদিন বয়ে চলতে হবে বলে ধারণা করছেন ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। তাঁরা বলছেন, ২০ বছর ধরে যুদ্ধটা চালানো হয়েছে ধার করা অর্থে। এর ওপরে আসা ৫০০ বিলিয়ন ডলার সুদ এর মধ্যেই পরিশোধ করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। ২০৫০ সালের মধ্যে এ সুদের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এর অর্থ, আফগান যুদ্ধের দায়ে প্রত্যেক মার্কিন নাগরিকের ঘাড়ে ২০ হাজার ডলার ঋণের বোঝা পড়তে যাচ্ছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ হামলার পর আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে ধরতে আফগানিস্তানে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী। এরপর দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী এবং পরে তাদের সহায়তায় গড়ে ওঠা আফগান সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের যুদ্ধ চলে আসছিল। গত ১ মে আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পর থেকে তালেবানের হামলা বাড়তে থাকে। একের পর এক দেশটির প্রাদেশিক রাজধানী দখলের ধারাবাহিকতায় গত রোববার কাবুল দখল করে নেয় তালেবান।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন