বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান তালেবানের দখলে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে দেখা যায়নি আখুন্দজাদাকে। তবে গতকাল তিনি একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম আখুন্দজাদা কোনো বিবৃতি দিলেন।

আখুন্দজাদার বিবৃতিটি ইংরেজিতে প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি দেশবাসীকে এটা নিশ্চিত করতে চাই যে ইসলামিক আইন ও শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নে এ সরকার কঠোর পরিশ্রম করে যাবে।’

বিবৃতিতে আখুন্দজাদা বলেন, ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের সব কর্মকাণ্ডই পরিচালিত হবে শরিয়াহ আইন অনুসারে। তালেবানের নতুন সরকার দেশটিতে দীর্ঘ মেয়াদে শান্তি, অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাবে।

আফগানদের উদ্দেশে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, তাদের উচিত হবে না দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া। কারও সঙ্গে ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের’ কোনো সমস্যা নেই।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আখুন্দজাদা। আর এই কাজে সবাইকে শামিল হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

কাবুলের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যাওয়ার পর সশস্ত্র সংগঠনটির অনেক নেতা প্রকাশ্যে আসেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আখুন্দজাদাকে দেখা যায়নি। তিনি কোথায় আছেন, সেটাও নিশ্চিত নয়। তবে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদের ভাষ্য, আখুন্দজাদা এখন কান্দাহারে রয়েছেন। তালেবানের আরেক মুখপাত্র বলেছেন, আখুন্দজাদা শিগগির প্রকাশ্যে আসবেন।

তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমর। এই সংগঠন দীর্ঘদিন তাঁর নেতৃত্বে ছিল। ২০০১ সালে তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হয়। তারপর ২০১৩ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত তালেবানের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। মোল্লা আখতার মনসুরের পরে তালেবানের নেতৃত্বে আসেন আখুন্দজাদা। তালেবানের রাজনীতি, সামরিক পদক্ষেপ, ধর্মীয় বিষয়সহ সব ক্ষেত্র তাঁর নিয়ন্ত্রণে। তিনি তালেবানের ‘বিশ্বস্ত নেতা’ হিসেবে পরিচিত।

আখুন্দজাদার জন্ম কান্দাহারে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবান যখন আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল, তখন বিচার বিভাগের প্রধান ছিলেন তিনি। এই সময় শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করেছিল তালেবান। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে নারীদের বাইরে কাজ করা বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া পাথর নিক্ষেপের মতো সাজা সে সময়ই বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে হামলা চালালে পাকিস্তানে পালিয়ে যান আখুন্দজাদা। ২০১৬ সালে মোল্লা আখতার মনসুর যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হলেন তালেবানের নেতা হন আখুন্দজাদা।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন