বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা

গত বৃহস্পতিবার কাবুল বিমানবন্দরে আফগানিস্তান ছাড়তে ভিড় করা লোকজনের মধ্যে আত্মঘাতী বোমা হামলার শক্ত নিন্দা জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাসহ ১৭০ জনের মতো প্রাণ হারান। আহত হয়েছেন প্রায় ২০০ জন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসের শাখা আইএসকেপি হামলার দায় স্বীকার করেছে।

প্রতিশ্রুতি রাখতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র

নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র। তার সঙ্গে ছিল পরিষদের স্থায়ী দুই সদস্যদেশ যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বলেন, ‘আজ, কাল বা ৩১ আগস্টের পর যখনই হোক আফগানিস্তান ছাড়তে আগ্রহী দেশটির নাগরিক ও বিদেশিদের নিরাপদে বিদেশ যেতে দেওয়া হবে—তালেবান এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে বলে আশা করে পরিষদ।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘কোনো নাগরিকের ভিন দেশে যাওয়ার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে তালেবানকে অবশ্যই দেশত্যাগে ইচ্ছুক সবাইকে নিরাপদে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। আর তা আকাশপথ বা স্থলপথ যে মাধ্যমেই হোক না কেন।

এ মুহূর্তে আমাদের কাছে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তাকাজ ত্বরান্বিত করা ও দেশটিতে এ কাজ পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অবাধ প্রবেশাধিকারের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

অন্য চার স্থায়ী সদস্যের বক্তব্য

জাতিসংঘে ফ্রান্সের স্থায়ী উপপ্রতিনিধি নাথালি এস্তিভাল-ব্রডহার্স্টও আফগানিস্তান ছাড়তে আগ্রহী ব্যক্তিদের যেকোনো সময় সে দেশ ত্যাগের অনুমতি দানের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে তালেবানের প্রতি আহ্বান জানান।
যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত বারবারা উডওয়ার্ড তাঁর বক্তব্যে আফগানিস্তানে গত দুই দশকে মানবাধিকার বিষয়ে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, দেশটিতে নারী, শিশু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

পরিষদে রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজায়া বলেন, গত শুক্রবার প্রস্তাবের বিলি করা খসড়ায় কিছু নীতিগত উদ্বেগের বিষয় প্রতিফলিত হয়নি। তাই তাঁর দেশ এ নিয়ে ভোটদানে বিরত থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রদূত জেং শুয়াং বলেন, আফগানিস্তানের নাজুক পরিস্থিতি ও অনিশ্চয়তার দিক বিবেচনা করে পরিষদের তৎপরতা এমন হওয়া উচিত, যা উত্তেজনা না বাড়িয়ে বরং প্রশমনে সহায়তা করে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশটিতে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা সেখান থেকে তড়িঘড়ি ও অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদেশি সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। আমরা আশা করি, সেনা সরিয়ে নেওয়ার মধ্যেই সব দায়দায়িত্বের শেষ নয়; বরং পরিস্থিতির প্রতিফলন ও সংশোধনের শুরু—বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বুঝতে হবে।’

পানশিরে ৮ তালেবান যোদ্ধা নিহত

রয়টার্স জানায়, আফগানিস্তানের পানশির উপত্যকায় তালেবানবিরোধী মিলিশিয়া বাহিনী ন্যাশনাল রেজিস্টেন্স ফোর্সের (এনআরএফ) সঙ্গে লড়াইয়ে আট তালেবান যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন। এনআরএফের মুখপাত্র ফাহিম দাস্তি জানিয়েছেন, সোমবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

বর্তমানে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে পানশিরে তালেবানের সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছে এনআরএফ। ১৫ আগস্ট তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলেও পানশিরই একমাত্র প্রদেশ, যেখানে তারা এখনো সুবিধা করে উঠতে পারেনি। ফাহিম দাস্তি বলেন, এই লড়াইয়ে তাঁদের দুই যোদ্ধা আহত হয়েছেন। আর তালেবানের আট সদস্য নিহত ও সমানসংখ্যক আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তালেবানের কোনো মুখপাত্রের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন