default-image

আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের যে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। চীন সরকারের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত বুধবার ঘোষণা দেন যে আগামী ১ মে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে। ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব সেনা প্রত্যাহারের কাজ শেষ হবে।

আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে। ১১ সেপ্টেম্বরের পর কাবুলে মার্কিন দূতাবাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্থাপনার নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনা আফগানিস্তানে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বাধীন জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদা। সেই হামলার জেরে সন্ত্রাস দমনের নামে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জিত হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, আফগানিস্তানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল ও ভয়ানক। আর সন্ত্রাসবাদের সমস্যার সমাধান তো অনেক দূরের বিষয়।

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা ছাড়াও ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর কয়েক হাজার সেনাসদস্য রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর ন্যাটোও সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। একটি দায়িত্বশীল ও সুশৃঙ্খল পন্থায় আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করা উচিত বলে মনে করে চীন। আফগানিস্তানে একটি মসৃণ রূপান্তর নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যাতে বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্য এ বিষয় দরকার বলে মন্তব্য করেন ঝাও লিজিয়ান।

আফগানিস্তান থেকে দৃষ্টি সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন চীনের হুমকিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মনোযোগ দিতে চায় বলে উল্লেখ করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে চীনা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়টি সামনে আনার সমালোচনা করেন ঝাও লিজিয়ান।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ ধরনের যোগসূত্র টানার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অশুভ ও স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের মনোভাব দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে না।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন