স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীরা এ সময় টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর নিক্ষেপ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, পশ্চিম তীরের বেইতা শহরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর শুরু হওয়া ফিলিস্তিনিদের এই বিক্ষোভে তাজা গুলি ও রাবারে মোড়ানো স্টিল বুলেট নিক্ষেপ করেন ইসরায়েলি সেনারা।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় ৩৭৯ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তাজা গুলিতে আহত হয়েছেন ৩১ ফিলিস্তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

শুক্রবার একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে ফিলিস্তিনের অন্য দুই শহর কাফর কাদুম ও বেইত দাজনে। সেখানে বিক্ষোভরত কয়েক ডজন ফিলিস্তিনির ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী।

হেবরোনের মাসাফার ইয়ট্টা এলাকায় বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হলে সেখানেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের হিসাব অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাড়ে ছয় লাখের বেশি বসতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত অঞ্চলে সব ইসরায়েলি বসতি অবৈধ।

ফিলিস্তিনিরা অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করায় গত মাসে এভিয়াটার বসতি নিয়ে পশ্চিম তীরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গত মে মাসে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। ওই সময় কমপক্ষে ৬০০ সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ইসরায়েলি বসতি স্থাপন যুদ্ধাপরাধ: জাতিসংঘ

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্তকারী বলেছেন, পূর্ব জেরুজালেম ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন যুদ্ধাপরাধ। গত শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোটিয়ার মাইকেল লিংক জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ইসরায়েলের এই অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানান। ইসরায়েল এই বৈঠক বর্জন করে। তিনি বলেন, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এসব অবৈধ বসতি গড়ে তুলছে, যা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি বলেন, ইসরায়েল গত বুধবার পশ্চিম তীরের একটি বেদুইন এলাকার আবাসস্থল গুড়িয়ে দেয়, যা বেআইনি ও হৃদয়বিদারক।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন