default-image

উত্তর কোরিয়া উচ্চক্ষমতার নতুন একটি রকেট ইঞ্জিনের পরীক্ষা চালিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এই পরীক্ষাকে তাঁর দেশের রকেটশিল্পের ‘নবজন্ম’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের চীন সফরের মধ্যেই প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়ার এই রকেট ইঞ্জিন পরীক্ষার খবর এল। শনিবারই টিলারসনকে আশ্বস্ত করে উত্তর কোরিয়ার অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু পরীক্ষার বিষয়ে উদ্বিগ্ন না হতে বলেছিল দেশটির প্রধান মিত্র হিসেবে পরিচিত চীন।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর খবরে বলা হয়, কিম জং-উন বলেছেন, বিশ্বমানের কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে নতুন এই রকেট ইঞ্জিন তাঁর দেশকে আরও এগিয়ে দেবে। তবে এই খবরের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া বা জাপান।
কেসিএনএর খবরে বলা হয়, রকেট ইঞ্জিন পরীক্ষার বিষয়টি সশরীরে উপস্থিত থেকে পর্যবেক্ষণ করেন নেতা কিম। এরপর তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, ‘আজ আমরা যে নবযুগ সৃষ্টিকারী বিজয় অর্জন করলাম, তা বিশ্ব শিগগিরই দেখতে পাবে।’
এর আগে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়। এর মধ্যে সর্বশেষ পরীক্ষাটি চালানো হয় ৬ মার্চ। জাপান বলেছে, ওই দিন যে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে পিয়ংইয়ং, তার মধ্যে কয়েকটি জাপানের উপকূলের মাত্র ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে গিয়ে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হয়তো আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম)।
উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আঞ্চলিকসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেশ উত্তেজনা চলছে। দেশটি জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ায় প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এটি মাথাব্যথার বিষয়। উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে দক্ষিণ কোরিয়াকে রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি সে দেশে ‘থাড’ নামে ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েনের কাজ শুরু করেছে। চীন এর বিরোধিতা করে আসছে।
দক্ষিণ কোরিয়া সফরের সময় গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়া যদি দক্ষিণ কোরিয়া বা মার্কিন বাহিনীকে ক্রমাগত হুমকি দিতেই থাকে, তাহলে সেনা অভিযানের বিষয়টি ভাবতে বাধ্য হবে তাঁর দেশ। পরের দিন টিলারসনের চীন সফরের সময় তাঁকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘মাথা ঠান্ডা’ রাখার পরামর্শ দেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন