বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যাওয়ার পর দেশটির নাগরিকেরা দেশ ছাড়তে কাবুল বিমানবন্দরে জড়ো হন। তাঁদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ যখন ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যস্ত, তখন ওই বিমানবন্দর এলাকায় ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ১৭০ বেসামরিক নাগরিক ও ১৩ মার্কিন সেনা নিহত হন। আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের আফগানিস্তান শাখা আইএস-কে (ইসলামিক স্টেট–খোরাসান) ওই হামলার দায় স্বীকার করে। ওই হামলার কয়েক দিন পর ড্রোন হামলাটি চালায় যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানে ২০ বছর যুদ্ধের সমাপ্তি টানার শেষ মুহূর্তে এটিই ছিল মার্কিন বাহিনীর শেষ হামলা।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা ওই ত্রাণসহায়তা কর্মীর একটি ব্যক্তিগত গাড়িকে শনাক্ত করে ড্রোন হামলা চালানোর আট ঘণ্টা আগে ভেবেছিলেন, ব্যক্তিগত গাড়িটি আইএস–কের কোনো আত্মঘাতী হামলাকারীর।

যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে দেখা গেছে, ওই ত্রাণসহায়তা কর্মীর গাড়িটি আইএস–কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ভবনের কাছে দেখা গিয়েছিল। কাবুল বিমানবন্দরে আবার আইএস–কের আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে অন্য গোয়েন্দাদের তথ্য মিলিয়ে দেখেই গাড়িটির ওপর ড্রোন হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ড্রোন দেখতে পায়, লোকটি গাড়ির বুটে (পেছনের অংশে) বিস্ফোরকদ্রব্যের মতো দেখতে কিছু একটা তুলছেন। আসলে সেগুলো ছিল পানির কন্টেইনার।

জেনারেল ম্যাকেঞ্জি ওই ড্রোন হামলাকে ‘মর্মান্তিক ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই হামলা চালানোর ঘটনায় তালেবানের থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্য নেওয়া হয়নি।

নিহত ওই ত্রাণসহায়তা কর্মীর নাম জামাইরি আকমাদি। কাবুল বিমানবন্দর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে তাঁর গাড়িতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। মার্কিন বাহিনী প্রথমে বলেছিল, গাড়িটি বিস্ফোরকদ্রব্যে ভর্তি ছিল।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছিলেন আহমাদ নাসের। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর দোভাষী হিসেবে কাজ করতেন। অন্য একজন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করতেন। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য তাঁদের কাছে ভিসাও ছিল।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন