যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ২০ বছর বয়সী নাজমা সাধারণত তাঁর রান্নার ভিডিও প্রকাশ করতেন। এ ছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে কাবুলের রাস্তায় বেড়িয়ে বিভিন্ন ভিডিও করতেন এবং তা প্রকাশ করতেন ইউটিউবে। কিন্তু সর্বশেষ ভিডিওটি যখন রেকর্ড করেন, তখন তাঁর চোখমুখে ছিল হতাশা।

নাজমার এই ভিডিও ছিল তাঁর শেষ ভিডিও। মূলত এই ভিডিওর মধ্য দিয়ে দর্শকের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, রাস্তায় বের হতে তিনি ভয় পান। নিজের জন্য দোয়া চেয়েছিলেন তিনি। নাজমা বলেন, কাবুলে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে যাঁরা আনন্দে থাকতেন এবং মুক্তভাবে চলাফেলা করতেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, এটা আমাদের দুঃস্বপ্ন। আমি আশা করি, আমরা আবারও জেগে উঠব। কিন্তু আমি এ–ও জানি, এটা সম্ভব নয় এবং বাস্তবতা হলো, আমরা শেষ হয়ে গেছি।’

আসলেই নাজমার জীবন শেষ হয়ে গেল। ২৬ আগস্ট কাবুলে হামলায় তিনি মারা যান। এই হামলায় নাজমার আরও দুই সহকর্মী মারা যান।

নাজমা কাবুলের একটি ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকতায় পড়াশোনা করছিলেন। সম্প্রতি তিনি আফগান ইনসাইডার ইউটিউব চ্যানেলে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর ভিডিওগুলো মানুষের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ভিডিওগুলো দেখা হয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ বার।

শেষ ভিডিওতে নাজমা বলেন, ‘আমি আমার দৈনন্দিন খরচ ও পড়াশোনার খরচ মেটাতে পারতাম কাজ করে। কিন্তু এই শহরের অনেক পরিবারই দিনে এক বেলা খাবারের আশায় বসে আছে।’ এ ছাড়া নারীরা যে বাইরে গিয়ে আর কাজ করতে পারবেন না, সে প্রসঙ্গও এনেছিলেন তিনি।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন