default-image

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক হয়ে ওঠা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ‘কোভিড সিরাপ’ নামের এক ভেষজ ওষুধ খাওয়ার অনুমোদন দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী পবিত্র ওয়ানিআরাচ্চি। এবার তাঁরই করোনা ধরা পড়েছে। গত শুক্রবার করোনা টেস্টের ফলাফলে তাঁর পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বিবিসির।

খবরে বলা হয়, এক কবিরাজ ওই সিরাপ তৈরি করেন। তিনি দাবি করেন, ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই ওষুধ সারা জীবন সুরক্ষা দেবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়ানিআরাচ্চি সিরাপটির পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।

শ্রীলঙ্কায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬ হাজার ৭৬ জন। মারা গেছেন ২৭৬ জন। দেশটিতে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় এ ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে।

শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ভিরাজ আবেসিংহে বিবিসিকে বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দুবার করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছে। দুবারই তিনি পজিটিভ শনাক্ত হন। তাঁকে স্বেচ্ছা আইসোলেশনে যেতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরাও আইসোলেশনে গেছেন।

ওয়ানিআরাচ্চিকে নিয়ে শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভার চারজন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভার একজন কনিষ্ঠ সদস্য ওই সিরাপ সেবন করেছিলেন। পরে গত সপ্তাহে কোভিডে আক্রান্ত হন ওই সদস্য। করোনার সংক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টায় সিরাপটির ব্যবহার উৎসাহিত করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনসমক্ষে এটি সেবন করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সিরাপটির উদ্ভাবনকারী কবিরাজ বলেন, এটি তাঁকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। তবে এই হারবাল সিরাপের কার্যকারিতার বিষয়টিকে নাকচ করে দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এএফপির খবরে বলা হয়, সিরাপটি সংগ্রহ করার জন্য হাজারো মানুষ দূরদূরান্ত থেকে ওই কবিরাজের কাছে ভিড় জমাচ্ছেন।

শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ভিরাজ আবেসিংহে বিবিসিকে বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দুবার করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছে। দুবারই তিনি পজিটিভ শনাক্ত হন। তাঁকে স্বেচ্ছা আইসোলেশনে যেতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরাও আইসোলেশনে গেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়ানিআরাচ্চি এমন এক সময় করোনা পজিটিভ শনাক্ত হলেন, যখন এর কয়েক ঘণ্টা আগেই অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকার জরুরি প্রয়োগের বিষয়টি অনুমোদন করে শ্রীলঙ্কা। এই টিকার প্রথম চালান আগামী সপ্তাহে দেশটিতে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর বিশ্বের বেশ কয়েকজন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং মন্ত্রিসভার সদস্য এতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য বিদায় নেওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ প্রমুখ।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন