default-image

জাপানে বহু প্রতীক্ষিত করোনা টিকাদান কর্মসূচি কাল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী টিকা নেবেন। সারা দেশে ১০০টি হাসপাতালের ২০ হাজার চিকিৎসক ও নার্স টিকার প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, তা যাচাই করে দেখার পরীক্ষায় অংশ নিতে স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছেন।

টিকাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রথম দফার টিকা নেওয়ার পর প্রতিদিনের শারীরিক অবস্থা লিপিবদ্ধ করে রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আগামী মাসে আরও ৩৭ লাখ সম্মুখসারির চিকিৎসাকর্মীকে টিকা দেওয়া হবে। এর পরের সারিতে আছেন ৬৫ বছর বা এর বেশি বয়সের ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ। এপ্রিল মাসে তাঁরা টিকা পাবেন। তৃতীয় ধাপে হৃদ্‌রোগ ও ডায়াবেটিসের মতো অসুস্থতায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের টিকা দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও টিকা দেবে জাপান।

ইতিমধ্যে জাপান সরকার দেশের ১২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের জন্য বিনা মূল্যে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করছে এবং জাপানে বসবাসরত বিদেশিদেরও এই দলে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।

তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ নয়, উন্নয়নশীল দেশের তুলনায়ও টিকাদান কর্মসূচি শুরুর ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে জাপান। টিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নানা পরীক্ষা–নিরীক্ষা হচ্ছে এর অন্যতম কারণ।

জাপানে সাধারণত নতুন কোনো ওষুধ কিংবা টিকার ব্যবহারিক অনুমোদন পেতে প্রায় বছর দুয়েক সময় লেগে যায়। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবস্থা বিবেচনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেই সময় অনেকটা কমিয়ে এনেছে। তারপরও অন্য অনেক দেশের চেয়ে জাপান টিকাদান কর্মসূচিতে পিছিয়ে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিদেশে চালানো ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা থেকে পাওয়া উপাত্তের ভিত্তিতে অল্প সময়ের মধ্যে এই অনুমোদন জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে মন্ত্রণালয় মনে করছে, জাপানিদের দেহে টিকার প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, তা যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। এই প্রয়োজনীয়তা থেকে ২০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর নজর রাখার প্রক্রিয়া কাল শুরু করবে সরকার।

জাপান তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে টিকা সংগ্রহ করছে। এগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার, মডার্না ও যুক্তরাজ্যের অ্যাস্ট্রাজেনেকা। এর মধ্যে ফাইজারের চার লাখ ডোজ টিকার প্রথম চালান বিশেষ একটি বিমানে গত শুক্রবার টোকিও এসে পৌঁছেছে। বেলজিয়ামে ফাইজারের কারখানায় টিকাগুলো তৈরি হয়েছে।

অবশ্য ফাইজারের টিকা নিয়ে দুটি বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে জাপানকে। একটি হচ্ছে টিকার সংরক্ষণ এবং অপরটি হচ্ছে টিকার জন্য বিশেষ সিরিঞ্জের ব্যবস্থা করা। ফাইজারের টিকা হিমাঙ্কের ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা দরকার এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় এগুলো পাঠানোর বেলায় তাপমাত্রা ধরে রাখার জন্য প্রচুর ড্রাই আইস ব্যবহার করতে হয়। এত কম তাপমাত্রার ফ্রিজারের পর্যাপ্ত সরবরাহ জাপানে নেই । জাপান সরকার দ্রুত এ ধরনের ফ্রিজার সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ড্রাই আইস উৎপাদকেরাও তরল কার্বন ডাই–অক্সাইডের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় উৎপাদন বাড়াতে পারছে না।

ফাইজারের টিকার জন্য ব্যবহারের বিশেষ সিরিঞ্জ নিয়েও ঝামেলায় পড়েছে জাপান। টিকার যে চালান জাপানে এসেছে, তা ছোট আকারের শিশিতে সংরক্ষণ করা। একটি শিশি থেকে ছয়জনকে টিকা দেওয়া সম্ভব।

টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা থাকলেও টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার বিষয়টিকে অনেকেই স্বস্তির চোখে দেখছেন। এ নিয়ে জাপানে করোনাভাইরাস টিকার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তারো কোনো মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, টিকার উপকারিতা ও ঝুঁকির দিকগুলো বিবেচনা করে অনেকেই টিকা নেবেন বলে তিনি আশা করছেন। তিনি সামাজিকভাবে বেশি মেলামেশা করা তরুণদের টিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

জাপানে গত জানুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এখন দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমছে। তবে টোকিওসহ নয়টি জেলায় জরুরি অবস্থা এখনো বহাল আছে। জাপানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৭ হাজার ৪২ জন মারা গেছেন।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন