বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চীনের প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্যের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলছে, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ কেবল এর জনগণই নির্ধারণ করতে পারে। জনগণের হাতেই তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ। তাইওয়ানের সাধারণ মানুষের মতামত বেশ পরিষ্কার। জনগণ ইতিমধ্যে চীনের ‘এক দেশ, দুই নীতি’ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল এক পৃথক বিবৃতিতে চীনকে ‘অনুপ্রবেশের উসকানিমূলক পদক্ষেপ, হয়রানি এবং ধ্বংস’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

তবে সি চিন পিং জানান, তিনি চান তাইওয়ান চীনের সঙ্গে হংকংয়ের মতো ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’—এই নীতির আওতায় শান্তিপূর্ণভাবে অঙ্গীভূত হোক। তাইওয়ানকে সতর্ক করে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদ মোকাবিলায় চীনা জনগণের ‘গৌরবময় ঐতিহ্য’ আছে।

চীনকে তাইওয়ানের মাতৃভূমি উল্লেখ করে সি চিন পিং গতকাল তাঁর ভাষণে আরও বলেন, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা মাতৃভূমির পুনর্মিলনে সবচেয়ে বড় বাধা এবং জাতীয় নবজাগরণের জন্য তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদ এমন এক বিপদ, যা খালি চোখে দেখা যায় না।’

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, তাইওয়ানের মানুষের সামগ্রিক স্বার্থের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে এক হওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়। নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও ঐক্য রক্ষা করবে চীন।

*** চীন বিপ্লবের ১১০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন চীনের প্রেসিডেন্ট।
***এদিকে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষায় তাদের পাশে থাকারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

এদিকে তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না দিলেও তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্র। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষায় তাদের পাশে থাকারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। গত সপ্তাহে গণমাধ্যমে খবর বের হয়, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সেনাদের গোপনে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। চীনকে মোকাবিলায় মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতার খবরও বের হয়। এ প্রসঙ্গে সি চিন পিং তাইওয়ানে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তাইওয়ানের ইস্যু চীনের একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয়। চীন কোনোভাবেই এই ইস্যুতে বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না।

২০১৬ সালে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকেই তাইপের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে বেইজিং।

সি চিন পিং বলেন, ‘চীনের জনগণের দৃঢ় সংকল্প, অবিচল ইচ্ছা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার শক্তিশালী ক্ষমতাকে কেউ অবমূল্যায়ন করবেন না। মাতৃভূমির সম্পূর্ণ পুনর্মিলনের ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে। তা অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে।’

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যারা নিজেদের ঐতিহ্য ভুলে মাতৃভূমির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং দেশকে বিভক্ত করার চেষ্টা করে, তারা কখনো সফল হবে না।’

গত জুলাইয়ের এক মন্তব্যে চিন পিং তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে যেকোনো চেষ্টা নস্যাৎ করার কথা বলেছিলেন। তাইওয়ানকে বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০১৯ সালে সরাসরি বলপ্রয়োগের হুমকিও দিয়েছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন আজ রোববার ১৯১১ সালের বিপ্লবের স্মরণে একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এই একটি ইভেন্টই চীন এবং তাইওয়ান একই সময়ে পালন করে।

গত সপ্তাহে তাইওয়ানের জলসীমা নিজেদের বলে দাবি করেছিল বেইজিং। এর পরপরই সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠায় ব্রিটেন। এদিকে চীনের হুঁশিয়ারি থাকা সত্ত্বেও ফরাসি দূতের একটি দল সম্প্রতি তাইওয়ান সফর করে গেছে।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত বুধবার বলেন, চীনের সঙ্গে তাঁদের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গত ৪০ বছরে এমনটি দেখা যায়নি। তাইওয়ানের আকাশসীমায় সম্প্রতি রেকর্ড দেড় শতাধিক চীনা যুদ্ধবিমান মহড়া দেয়। তবে চীনের প্রেসিডেন্ট গতকাল তাঁর বক্তব্যে এ প্রসঙ্গে কিছু বলেননি।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন