বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তালেবান অবশ্য এসব নিষেধাজ্ঞাকে ‘ধর্মীয় গাইডলাইন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আর এসব নিষেধাজ্ঞা যে শুধু নারীর জন্য, এমনটা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আরেক গণমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, তালেবানের ওই আদেশে বলা হয়েছে, টেলিভিশনে যদি কোনো পুরুষও উপস্থিত হন, ‘সঠিক পোশাক’ পরতে হবে। তবে এই সঠিক পোশাক বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সিএনএন বলছে, নতুন যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সেগুলো মূলত গণমাধ্যম বা সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর জন্য। তালেবান ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম গণমাধ্যমের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।

ভয়েস অব আমেরিকা বলছে, তালেবান শরিয়াহ আইনের আলোকে এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু প্রমোশন অব ভার্চু অ্যান্ড প্রিভেশন অব ভাইস মন্ত্রণালয় এর উল্টো কথা বলছে। ‘অনৈতিক প্রচার’ থামাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ‘শরিয়াহ ও আফগানিস্তানের যে মূল্যবোধ’, তার বিরুদ্ধে যে প্রচার চলছে, তা বন্ধে এমন পদক্ষেপ। ভয়েস অব আমেরিকা বলছে, নারী অধিকার খর্ব করার ক্ষেত্রে এটি সর্বশেষ পদক্ষেপ।

নতুন এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেই ক্ষান্ত হয়নি তালেবান সরকারের ওই মন্ত্রণালয়; এসব নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে আফগানিস্তানের গণমাধ্যমগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে, বিদেশ ও দেশে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো বিদেশি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অনৈতিকতার প্রচার চালায়। এসব প্রচার করা উচিত হবে না।

আফগানিস্তানের টেলিভিশনে কৌতুকনির্ভর অনুষ্ঠান প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তালেবান সরকার। এতে বলা হয়েছে, এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যক্তিকে খাটো কিংবা অপমান করা হয়ে থাকে। প্রমোশন অব ভার্চু অ্যান্ড প্রিভেশন অব ভাইস মন্ত্রণালয় বলেছে, টেলিভিশনে ইসলামের নবীদের নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না।

আফগানিস্তানে এমন নিষেধাজ্ঞা এই প্রথম নয়; এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবান যখন ক্ষমতায় ছিল, তখনো এমন নিষেধাজ্ঞা ছিল। ওই সময়ও নীতি–নৈতিকতাবিষয়ক সরকারি দপ্তর ছিল। নারীরা তখন বাইরে যেতে পারতেন না। বাইরে যেতে হলে অবশ্যই পুরুষ আত্মীয়কে রাখতে হতো। নারীরা বাইরে বের হলে তাঁদের হাত, পা ও কবজি দেখা গেলে তালেবানের নীতি–নৈতিকতাবিষয়ক পুলিশ সদস্যরা তাঁদের প্রকাশ্যে পেটাবেন—এমন বিধানও ছিল।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন